হাতিরঝিলের এম্ফি অডিটোরিয়ামে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যাটা ছিল আনন্দ, গর্ব আর আবেগে ভরা। সাফ উইমেন’স ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপের ট্রফি হাতে নিয়ে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে হাজির বাংলাদেশ নারী ফুটসাল দল। উচ্ছ্বাসভরা কণ্ঠে অধিনায়ক সাবিনা খাতুন বললেন, “এই ট্রফি আপনাদের জন্য।” মুহূর্তেই করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে গ্যালারি।
থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত সাফ উইমেন’স ফুটসালের প্রথম আসরেই ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। ছয় ম্যাচে পাঁচ জয় ও এক ড্রয়ে অপরাজিত থেকে শিরোপা জেতে দলটি। টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ১৪ গোল করে সেরা গোলদাতার স্বীকৃতিও পান অধিনায়ক সাবিনা খাতুন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সাবিনা বলেন, দেশের মানুষের ভালোবাসা আর সমর্থনই মেয়েদের সবচেয়ে বড় শক্তি। প্রতিটি জয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের প্রতিক্রিয়া খেলোয়াড়দের আরও অনুপ্রাণিত করে বলে জানান তিনি। কোচিং স্টাফ, ফেডারেশন কর্মকর্তাসহ দলের পেছনে থাকা সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন অধিনায়ক।
বাংলায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দিয়ে দর্শকদের চমকে দেন ইরানি কোচ সাঈদ খোদারাহমি। তিনি বলেন, অল্প সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশের ফুটসালে সম্ভাবনার স্পষ্ট ছাপ দেখা যাচ্ছে। খেলোয়াড়দের ধন্যবাদ জানিয়ে কোচ বলেন, চাপের মধ্যেও মেয়েরা দারুণভাবে নিজেদের প্রমাণ করেছে।
অনুষ্ঠানে ফুটসাল কমিটির চেয়ারম্যান ইমরানুর রহমান দাবি তোলেন একটি মিনি স্টেডিয়ামের। তিনি বলেন, সরকার ও বাফুফের সহযোগিতা পেলে বাংলাদেশের ফুটসাল আন্তর্জাতিক মানচিত্রে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল বলেন, ফুটবলের পাশাপাশি ফুটসালেও চ্যাম্পিয়ন হয়ে সাবিনা খাতুন দেশের ক্রীড়াঙ্গনে অনন্য নজির গড়েছেন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের খেলোয়াড়দের জন্য এই সাফল্য বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানের শেষভাগে বাজতে থাকে ‘চ্যাম্পিয়ন, চ্যাম্পিয়ন’ গান। ট্রফি হাতে দল, কর্মকর্তারা ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন ফটোসেশনে। হাসি, সেলফি আর ক্যামেরার ফ্ল্যাশে স্মরণীয় হয়ে ওঠে বাংলাদেশের নারী ফুটসালের এই গর্বের রাত।
