ব্রাজিলীয় ফুটবলের মহাতারকা নেইমারের সময়টা মোটেও ভালো যাচ্ছে না। আসন্ন প্রীতি ম্যাচগুলোর জন্য কার্লো আনচেলত্তির ঘোষিত ব্রাজিল দলে জায়গা পাননি এই ফরোয়ার্ড। ২০২৬ বিশ্বকাপ দরজায় কড়া নাড়লেও জাতীয় দলে তার ভবিষ্যৎ এখন সুতোর ওপর ঝুলছে। এমন পরিস্থিতিতে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে এক আবেগঘন বার্তায় নেইমার জানিয়েছেন, আসন্ন বিশ্বকাপই হতে যাচ্ছে তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বমঞ্চ।
ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ প্রীতি ম্যাচগুলোর জন্য নেইমারকে স্কোয়াডের বাইরে রেখেছেন কোচ আনচেলত্তি। অথচ এই গ্রীষ্মেই মাঠে গড়াবে বিশ্বকাপ, যেখানে গ্রুপ ‘সি’-তে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ মরক্কো, স্কটল্যান্ড ও হাইতি। বর্তমানে সান্তোসের হয়ে খেলা এই তারকা স্পষ্ট করেছেন যে, দেশের জার্সিতে আরেকটি বিশ্বকাপ খেলার জন্য তিনি কতটা মরিয়া।
নিজের ইউটিউব চ্যানেলে নেইমার বলেন, “অবশ্যই এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ। আমি জানি না জাতীয় দলে এটাই আমার শেষ বছর কি না, তবে সবকিছুরই একটা সমাপ্তি আছে। আমি আমার বন্ধু ও পরিবারকে সবসময় বলি, তোমরা এখন আমাকে যতটুকু পারো দেখে নাও। খেলাগুলো উপভোগ করো, কারণ এই পথচলা শেষের দিকে।”
ব্রাজিলীয় ফুটবলে নেইমারের অবদান অনস্বীকার্য। বিশ্বকাপে ১৩ ম্যাচে অংশ নিয়ে তার ঝুলিতে রয়েছে ৮টি গোল এবং ৩টি অ্যাসিস্ট। বিশেষ করে ২০১৪ সালের ঘরের মাঠের বিশ্বকাপে ৫ ম্যাচে ৫টি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছিলেন তিনি, যদিও কোয়ার্টার ফাইনালে পিঠের ইনজুরিতে পড়ে তার সেই যাত্রা থমকে গিয়েছিল। বয়সের ভার আর ইনজুরি তাকে বারবার বাধা দিলেও নিজের সামর্থ্যের ওপর এখনও পূর্ণ আস্থা রয়েছে তার।
সান্তোসের এই ফরোয়ার্ড আরও বলেন, “আমি এখনও জাতীয় দলকে সাহায্য করতে পারি। মাঠে আমার কী গুণ বা শক্তি আছে তা আমি জানি। বিশ্বকাপ খেলার ইচ্ছা আমাকে প্রতিনিয়ত তাগিদ দেয়। গত এক সপ্তাহ ধরে সংবাদমাধ্যমে আমাকে নিয়ে ট্রিলিয়ন বার কথা হয়েছে। আমি শুধু ফুটবল খেলতে চাই, সেটা সান্তোসের হয়ে হোক বা জাতীয় দলের হয়ে। প্রতিটি ম্যাচে নিজের সেরাটা দেওয়াই আমার লক্ষ্য।”
পেশাদার ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে এসে নেইমার এখন কেবল একটি সুযোগের অপেক্ষায়। নেইমারহীন ব্রাজিল বিশ্বকাপ অভিযানে কতটা সফল হবে, কিংবা শেষ পর্যন্ত আনচেলত্তি তার অভিজ্ঞতার ওপর ভরসা রাখবেন কি না, সেই উত্তর মিলবে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণার পর।
সূত্র: বেইন স্পোর্টস
