দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে চিরচেনা সেই ছন্দ আর জাদুকরী পায়ের কারুকাজে আবারও ফুটবল বিশ্বকে মন্ত্রমুগ্ধ করলেন নেইমার জুনিয়র।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ব্রাসিলিরিও-র চতুর্থ রাউন্ডে ভাস্কো দা গামার বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে সান্তোসের জয়ের দিনে জোড়া গোল করে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেন এই ব্রাজিলীয় মহাতারকা।
২০২৬ সালের শুরু থেকে চলা গোলখরা কাটিয়ে মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই যেন কড়া জবাব দিলেন সমালোচকদের। সান্তোসের ঘরের মাঠে ম্যাচের ২৫ মিনিটেই দলকে লিড এনে দেন নেইমার। গোল করার পর তার উদযাপনটিও ছিল বেশ নজরকাড়া; রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসিউস জুনিয়রের সিগনেচার নাচে মেতে উঠে তিনি যেন মাঠেই আনন্দ বিলিয়ে দিলেন।
ম্যাচ শেষে স্পোর্ত টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেইমার তার মনের জমে থাকা ক্ষোভ আর আত্মবিশ্বাসের কথা অকপটে তুলে ধরেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, মাত্র এক সপ্তাহ আগেই যারা তাকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে বাজে খেলোয়াড়’ কিংবা ‘অবসরপ্রাপ্ত’ বলে কটাক্ষ করছিল, তারাই আজ তার পারফরম্যান্স দেখে মুগ্ধ।
নেইমারের মতে, ফুটবল মাঠের লড়াইটাই এমন এক দিন আপনি খলনায়ক, তো পরের দিনই নায়ক। এ বছরের শুরুতে অস্ত্রোপচারের ধকল কাটিয়ে তৃতীয় ম্যাচ খেলতে নামা নেইমার স্বীকার করেছেন যে শরীর এখনও শতভাগ সায় দিচ্ছে না, তবে বিশ্বকাপের আগে নিজেকে সেরা ছন্দে ফেরাতে তিনি জানপ্রাণ লড়িয়ে দিচ্ছেন। সেলেসাও কোচ কার্লো আনচেলত্তিও ইতিপূর্বে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ফিট থাকলে বিশ্বকাপের মঞ্চে নেইমার থাকছেন অবধারিতভাবেই।
তবে এই আনন্দের দিনেও মাঠে কিছুটা উত্তাপ ছড়িয়েছিল ভাস্কো মিডফিল্ডার থিয়াগো মেন্দেসের সাথে নেইমারের পুরনো দ্বন্দ্ব। ২০২০ সালে পিএসজির হয়ে খেলার সময় মেন্দেসের এক চ্যালেঞ্জে গুরুতর চোটে পড়েছিলেন নেইমার, যার রেশ রয়ে গেছে আজও। ম্যাচে মেন্দেসের সাথে তর্কে জড়ানো নিয়ে নেইমার বেশ কড়া সুরেই বলেন যে, কিছু মানুষ সবসময় ঝামেলা পাকাতে ভালোবাসে। তবুও সব তিক্ততা ছাপিয়ে দিনটি ছিল শুধুই নেইমারের। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের পর এই প্রথম জালের দেখা পেলেন তিনি, যা কেবল সান্তোস ভক্তদেরই নয়, বরং আসন্ন বিশ্বকাপের আগে গোটা ব্রাজিল দলকেই এক নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।
সূত্র: ইএসপিএন
