স্বপ্নভঙ্গের নীল বেদনায় আরও একবার পুড়ল লাল-সবুজের জার্সি। ব্যাংককের আকাশ যখন ভারতীয় মেয়েদের উল্লাসে মুখরিত, তখন একরাশ হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়লেন ফাহিমা খাতুনরা। এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারসের ফাইনালে ১৩৫ রানের লক্ষ্যটা খুব বড় ছিল না, কিন্তু সেই লক্ষ্য ছোঁয়ার পথে যেন অদৃশ্য এক পাহাড় টপকাতে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলল বাংলাদেশ ‘এ’ দল। ফাহিমার জাদুকরী স্পেলে একসময় ভারতকে নাভিশ্বাস তুলে দিলেও, শেষ হাসিটা হাসতে পারলেন না বাংলার মেয়েরা। ৪৬ রানের এক বড় পরাজয়ে ট্রফিটা আবারও হাতছাড়া হলো তাদের।
মাঠে লড়াই ছিল সমানতালে। প্রথমে ব্যাট করা ভারত যখন ১৩৪ রানে থমকে গিয়েছিল, তখন গ্যালারির কয়েক শ বাংলাদেশি সমর্থকের চোখেমুখে ছিল শিরোপা জয়ের ঝিলিক। অধিনায়ক ফাহিমা খাতুন একাই ধসিয়ে দিয়েছিলেন প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপ। তার ঘূর্ণি জাদুতে আসা ৪টি উইকেট যেন রূপকথা লিখে দিচ্ছিল বাংলাদেশের জন্য। কিন্তু সেই রূপকথা ট্র্যাজেডিতে রূপ নিতে খুব বেশি সময় লাগেনি। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা মন্দ না হলেও মাঝপথে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে ইনিংস।
মাঝমাঠে শামীমা ও শারমিনের ২৫ রানের ছোট্ট জুটির পর আর কেউই টিকতে পারেননি উইকেটে। ১৯.১ ওভারের মাথায় মাত্র ৮৮ রানে যখন অলআউট হয়ে গেল বাংলাদেশ, তখন থাইল্যান্ডের ব্যাংককজুড়ে ভারতের জয়ের জয়ধ্বনি। গতবার হংকংয়ে যে গল্পের শুরু হয়েছিল ভারতের হাতে ট্রফি ওঠার মধ্য দিয়ে, ২০২৬ সালের এই ফেব্রুয়ারিতে ব্যাংককেও ঠিক সেই গল্পেরই পুনরাবৃত্তি হলো। বাংলাদেশের মেয়েদের জন্য দিনটি রয়ে গেল কেবলই আক্ষেপ আর অপ্রাপ্তির। রান রেটের সেই মন্থর গতি আর দ্রুত উইকেট পতনের মিছিলে শেষমেশ মাথা নিচু করেই মাঠ ছাড়তে হলো এশিয়া কাপের রানার্সআপদের।
