বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাচ্ছে ইরান?

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন বারুদের গন্ধে ভারী। ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যৌথ সামরিক অভিযান এবং এর পাল্টা জবাবে মার্কিন ঘাঁটিতে তেহরানের আক্রমণের খবর বিশ্ব রাজনীতিতে এক চরম অস্থিরতা তৈরি করেছে। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব গিয়ে পড়েছে ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ওপর। আগামী জুনে অনুষ্ঠেয় এই মেগা ইভেন্টের অন্যতম আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র এবং অংশগ্রহণকারী দেশ ইরান এখন সরাসরি যুদ্ধে লিপ্ত। এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন মাটিতে ইরানের বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। খোদ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর খবর পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে, যা ফুটবল ভক্তদের মনে প্রশ্ন জাগিয়েছে, ইরান কি তবে বিশ্বকাপ বর্জন করবে, নাকি নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়বে?

সুইজারল্যান্ডে ফিফার সদর দপ্তরেও এই ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগের ছাপ স্পষ্ট। ফিফা মহাসচিব ম্যাটিয়াস গ্রাফস্ট্রম জানিয়েছেন যে, তারা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন এবং আয়োজক দেশগুলোর সরকারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছেন। তবে মাঠের লড়াইয়ের চেয়ে এখন জীবন ও নিরাপত্তার প্রশ্নটি বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহেদী তাজও বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্বীকার করে নিয়েছেন। তার মতে, বর্তমান অবস্থায় বিশ্বকাপ নিয়ে আশাবাদী হওয়া কঠিন এবং দলের অংশগ্রহণের বিষয়টি এখন পুরোপুরি রাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থান এবং ইরানি নাগরিকদের ওপর বিদ্যমান ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে খেলোয়াড়দের ভিসা প্রাপ্তি নিয়েও বড় সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

যদি শেষ পর্যন্ত ইরান বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায় বা তাদের নিষিদ্ধ করা হয়, তবে টুর্নামেন্টের কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে। ফিফার বিধিমালা অনুযায়ী, এমন জরুরি পরিস্থিতিতে সংস্থাটি চাইলে ‘জি’ গ্রুপকে তিন দলের গ্রুপে রূপান্তর করতে পারে অথবা এশিয়ার বাছাইপর্ব থেকে অন্য কোনো দেশকে বিকল্প হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। সে ক্ষেত্রে সংযুক্ত আরব আমিরাত বা ইরাকের মতো দেশগুলোর সামনে সুযোগ আসতে পারে। তবে আধুনিক ফুটবলের ইতিহাসে মূল আসর শুরুর এত অল্প সময় আগে কোনো দেশের সরে দাঁড়ানোর ঘটনা বিরল। ১১ জুন বিশ্বকাপ শুরুর কথা থাকলেও বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি পুরো টুর্নামেন্টের আমেজ ও নিরাপত্তার ওপর এক বিশাল প্রশ্নচিহ্ন ঝুলিয়ে দিয়েছে। ফুটবল বিশ্বের চোখ এখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের দিকে, কারণ সেখানে মাঠের বল গড়ানোর আগেই চলছে বারুদের খেলা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back To Top