ব্রাজিলীয় ফুটবলের প্রাণভোমরা নেইমার জুনিয়রকে ঘিরে ভক্তদের উন্মাদনা তুঙ্গে থাকলেও জাতীয় দলের আগামী পরিকল্পনায় আপাতত তাকে রাখছেন না কোচ কার্লো আনচেলত্তি। সান্তোসের হয়ে কাম্পেওনাতো পাউলিস্তায় নোভোরিজোন্তিনোর কাছে হেরে বিদায় নেওয়ার পর নেইমারের পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। তবে তাতে সেলেসাওদের হেড কোচের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। আনচেলত্তি ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছেন এবং সেই ভবিষ্যতে নেইমারকে তড়িঘড়ি করে দলে ফেরানোর কোনো তাড়াহুড়ো নেই ইতালিয়ান এই ট্যাকটিশিয়ানের।
ইএসপিএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সান্তোসের হয়ে রাজ্য চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে আগেভাগে বিদায় নেওয়ায় নেইমার দল থেকে দূরে সরে গেছেন এমনটা নয় বরং আসন্ন প্রীতি ম্যাচগুলোর প্রাথমিক পরিকল্পনাতেই তাকে রাখা হয়নি। ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আনচেলত্তি এখন একটি সুনির্দিষ্ট পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। খেলোয়াড়ের তারকাখ্যাতির চেয়ে শারীরিক সক্ষমতাকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। মার্চে যুক্তরাষ্ট্রে ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রীতি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। বোস্টন ও অরল্যান্ডোতে অনুষ্ঠেয় এই ম্যাচগুলোকে আনচেলত্তি তার দলের শেষ পরীক্ষাগার হিসেবে দেখছেন। তবে দীর্ঘমেয়াদী চোট কাটিয়ে ফেরা নেইমারকে এখনই আন্তর্জাতিক ফুটবলের চাপে না ফেলে ক্লাব পর্যায়ে ছন্দ খুঁজে পাওয়ার সুযোগ দিতে চান তিনি।
ব্রাজিলীয় ফুটবল কনফেডারেশনের পক্ষ থেকে নেইমারের প্রতিটি পদক্ষেপ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোচিং স্টাফদের প্রত্যাশা ছিল নেইমার ফেব্রুয়ারিতে মাঠে ফিরে ধীরে ধীরে ছন্দ ফিরে পাবেন এবং সান্তোসের হয়ে নিজেকে ফিরে পাবেন। আনচেলত্তির বর্তমান অগ্রাধিকার হলো দলের প্রধান ভরসা নেইমারকে ছাড়াই বাকি সদস্যরা কতটা নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে তা দেখা। পূর্বসূরিদের মতো নেইমারের অন্তর্ভুক্তির ব্যাপারে আনচেলত্তি কোনো মরিয়া ভাব দেখাচ্ছেন না বরং তার অবস্থান অত্যন্ত স্বচ্ছ। তার মতে, নেইমারের সামর্থ্য নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই, তবে জাতীয় দলের হলুদ জার্সি গায়ে জড়াতে হলে তাকে ফিটনেসের সর্বোচ্চ মানদণ্ড পূরণ করতে হবে। আগামী মে মাসে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে যে, নেইমার তার চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলার মতো শারীরিক অবস্থায় আছেন কি না।
ব্রাজিলের ফুটবল ভক্তরা কিংবদন্তি এই ফরোয়ার্ডকে নিয়ে মগ্ন থাকলেও জাতীয় দলের কোচিং স্টাফরা নীরবে দলের অন্যান্য ফাঁকফোকর মেরামতে ব্যস্ত। রক্ষণভাগের গভীরতা নিয়ে এখনো বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে। বিশেষ করে ফুল-ব্যাক পজিশন, সেন্ট্রাল ডিফেন্সে মার্কিনহোস ও গ্যাব্রিয়েল মাগালেসের বিকল্প এবং ব্রুনো গিমারেসের বিকল্প খুঁজে বের করা এখন আনচেলত্তির প্রধান লক্ষ্য। নেইমারের ফেরার পথ খোলা থাকলেও আপাতত তার অনুপস্থিতিতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ দল গঠন করাই হচ্ছে ব্রাজিলীয় কোচের মূল চ্যালেঞ্জ।
