রিওর নীল আকাশ, কপাকাবানার ঢেউয়ের সাথে সাম্বার তাল; সবমিলিয়ে মধুর মুহূর্তেই শুরু হলো ঐতিহাসিক আনন্দঘন যাত্রা। ফুটবল আর কালচারের দারুণ মিশেলে ব্রাজিল জানান দিলো তারা তৈরি, নারী ফুটবল বিশ্বকাপের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত পেলে, রোনালডো আর নেইমারের দেশ।
আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো ফিফা উইমেনস ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৭-এর পথচলা। রিও ডি জেনেইরোর কপাকাবানায় বর্ণাঢ্য, সংস্কৃত আয়োজনেই উন্মোচন করা হয়েছে টুর্নামেন্টের অফিসিয়াল এমব্লেম, স্লোগান ও সোনিক আইডেন্টিটি।
লাতিন আমেরিকার প্রথম দেশ হিসেবে নারী বিশ্বকাপ আয়োজনের গৌরব অর্জন করতে যাচ্ছে ব্রাজিল। তাই উন্মাদনার রঙও বেশ চড়া। আবেগের অবগাহনও হৃদয় জাগানিয়া।
তাই ফুটবল, সঙ্গীত, শিল্প আর আমাজনের বুক ফুঁড়ে বেরোনো আবেগ একাকার হয়ে যায় পুরো আয়োজনে। বিশ্বের অন্যতম আইকনিক লোকেশনে দাঁড়িয়েই ফিফা জানিয়ে দিল, ২০২৭ সালের নারী বিশ্বকাপ হবে আনন্দময়, অন্তর্ভুক্তিমূলক। যার পরতে পরতে থাকবে নিখাদ ব্রাজিলিয়ান স্বাদ আর আমেজ।
ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোও বলেলেন, ব্রাজিল ফুটবলে বাঁচে, ফুটবলে নিঃশ্বাস নেয়। এখানে এসে বিশ্বকে স্বাগত জানানোর যে দারুণ উন্মাদনা অনুভব করছি, তা এককথায় অসাধারণ। এর চেয়েও বড় কথা, নারী ফুটবলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে ব্রাজিল পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই ব্র্যান্ড আমাদের সেই যৌথ স্বপ্নের প্রতিফলন।
ব্রাজিলের জাতীয় পতাকা ও ফুটবল মাঠের জ্যামিতি আকার থেকেই প্রেরণা নিয়েই বানানো হয়েছে এমব্লেমটি। ডব্লিউ আর এম যুক্ত করা এই প্রতীক বলছে, গতি আর দক্ষতার কথা। আর টুর্নামেন্টের স্লোগান ‘গো এপিক’-এর মাধ্যমে বিশ্ব সমর্থকদের অবিস্মরণীয় অভিযানের অংশ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ব্রাজিলের সাম্বা, পারকাশন ও আফ্রো-ব্রাজিলিয়ান ঐতিহ্যে অনুপ্রাণিত হয়েই বানানো হয়েছে নারী বিশ্বকাপের সোনিক আইডেন্টিটি। আবেগ, শক্তি আর প্রাণের উচ্ছ্বাস ধ্বনির অনুরণন শোনা যাবে এতে কান পাতলেই।
এই আয়োজনে হাজির ছিলেন ফুটবল কিংবদন্তিরা। ভিডিও বার্তায় ব্রাজিলের কিংবদন্তি নারী ফুটবলার মার্তা বলেন, ফুটবল মানে ভালোবাসা, আর ব্রাজিল ফুটবলকে ভালোবাসে। আমরা গর্ব, আবেগ আর বিশ্বাস নিয়ে নারী ফুটবলকে আলিঙ্গন করতে প্রস্তুত।
এই আয়োজনে উৎসবের নগরীতে রূপ নেয় কপাকাবানার বিখ্যাত অ্যাভেনিদা আটলান্তিকা। বিশাল শিল্পক্যানভাস হয়ে ওঠে চারপাশ। ফুটবলের আয়োজন এলেই রাস্তা রাঙানোর ঐতিহ্যে মাতে ব্রাজিল, এবারও তার ব্যতিক্রম হলো না। স্ট্রিট আর্টেই উঠে এলো ফুটবল, সংস্কৃতি আর জাতীয় পরিচয়ের দারুণ চিত্র।

