সবুজ গালিচায় কি তবে শেষ হতে চলেছে এক জাদুকরী অধ্যায়? ফুটবল বিশ্বের বাতাসে এখন কেবলই বিদায়ের সুর। যে বছরটিতে সারা বিশ্ব মেতে ওঠার কথা ফিফা বিশ্বকাপের উন্মাদনায়, ঠিক সেই ২০২৬ সালেই কি তবে চিরতরে বুট জোড়া তুলে রাখবেন সময়ের সেরা কিংবদন্তিরা? ৪১ বছর পেরোনো ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো কিংবা অনিশ্চয়তায় ঘেরা লিওনেল মেসির পথ ধরে এবার অবসরের ইঙ্গিত দিলেন ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের ‘পোস্টার বয়’ নেইমার জুনিয়র। ইনজুরি আর মাঠের বাইরের লড়াইয়ের ক্লান্তিতে ৩৪ বছর বয়সেই ফুটবলকে বিদায় জানানোর সম্ভাবনা উঁকি দিচ্ছে এই তারকার মনে।
সম্প্রতি সান্তোসে নিজের পুরনো ডেরায় ফিরে নেইমার এক আবেগঘন বার্তায় জানিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বরই হতে পারে তার শেষ সময়। ইনজুরির কারণে দীর্ঘ বিরতির পর সুস্থ হয়ে মাঠে ফিরলেও মনের কোণে জমানো সংশয় লুকাননি তিনি। তিনি স্পষ্ট করেই বলেছেন, ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি এখনও নিশ্চিত নন। হতে পারে ডিসেম্বরেই তিনি থামার সিদ্ধান্ত নেবেন। বর্তমানে দিনকে দিন হিসেবে এগোচ্ছেন তিনি। তার কাছে এই বছরটি যেমন সান্তোসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি ব্রাজিলের জাতীয় দল আর নিজের ক্যারিয়ারের জন্যও এক বিশাল পরীক্ষা।
এসিএল ইনজুরির ক্ষত কাটিয়ে উঠতে গত বছর অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছিল তাকে। সেই কঠিন সময় পার করে যখন তিনি আবার মাঠে ফেরার লড়াই করছেন, তখন সামনে লক্ষ্য একটাই ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া ফিফা বিশ্বকাপ। নেইমার চান শতভাগ ফিট হয়ে মাঠে নামতে, কোনো ভয় বা যন্ত্রণা ছাড়াই দলের হাল ধরতে। ভক্তদের সমালোচনার জবাব দিতে নয় বরং নিজের আত্মতৃপ্তির জন্যই তিনি এক পা এক পা করে এগোচ্ছেন। তার জীবনের গতিপথ এখন অনেকটা তার সহজাত প্রবৃত্তির ওপর নির্ভর করছে।
ইতিহাসের পাতায় ব্রাজিলের হয়ে ১২৮ ম্যাচে ৭৯টি গোল করা এই ফুটবল জাদুকর তার চতুর্থ বিশ্বকাপের স্বপ্ন বুনছেন। ২০১৪ সালে ঘরের মাঠে জার্মানির কাছে সেই দুঃস্বপ্ন, ২০১৮ তে বেলজিয়ামের কাছে হার কিংবা ২০২২-এ ক্রোয়েশিয়ার কাছে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে ছিটকে যাওয়ার যন্ত্রণা; সবকিছুই হয়তো এক নিমেষে ঘুচে যেতে পারে যদি আগামী ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে শুভসূচনা করে ব্রাজিল। ২০০২ সালের পর দীর্ঘ ২৪ বছরের খরা কাটিয়ে ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপ উঁচিয়ে ধরার স্বপ্নে বিভোর নেইমার কি পারবেন তার শেষবেলায় সাম্বার ছন্দে সারা বিশ্বকে আবারও মাতিয়ে দিতে? উত্তরটা সময়ের হাতে তোলা থাকলেও, ভক্তদের মনে এখন একটাই প্রার্থনা, জাদুকর যেন বিদায়বেলায় তার শ্রেষ্ঠ উপহারটি দিয়েই মাঠ ছাড়েন।
