আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ফুটবলারদের মানসিক প্রস্তুতি ও একাগ্রতা নিয়ে বিশেষ পরামর্শ দিয়েছেন ব্রাজিলের ১৯৯৪ বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক কার্লোস দুঙ্গা। তার মতে, বিশ্বমঞ্চে সোনালী ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরতে হলে এক মাসের জন্য বাইরের সব আবেগ ও ব্যক্তিগত জীবন আড়ালে রেখে কেবল খেলাতেই নিমগ্ন হতে হবে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে গিয়ে দুঙ্গা বলেন, যখন কোনো দেশ বিশ্বকাপ জেতে, তখন তারা এমন কিছু করে যা অন্য দলগুলো করতে পারে না। তিনি মনে করেন, মাঠের লড়াইয়ে নামার অনেক আগেই ম্যাচ জয়ের প্রস্তুতি নিতে হয় পরিকল্পনা আর অনুশীলনের টেবিলে। ৩২ বছর আগের স্মৃতি হাতড়ে তিনি জানান, বর্তমান সময়ের মতো তখন তথ্যপ্রযুক্তি এত সহজলভ্য ছিল না। সে সময় প্রতিপক্ষ সম্পর্কে জানতে তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা টিভি সম্প্রচারের অপেক্ষা করতে হতো। কোচিং স্টাফদের পাশাপাশি খেলোয়াড়রাও ডিনার টেবিলে বসে একে অপরের সাথে প্রতিপক্ষ দলের শক্তি ও দুর্বলতা নিয়ে আলোচনা করতেন। ইউরোপের বিভিন্ন ক্লাবে খেলার সুবাদে ফুটবলারদের কাছে যে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থাকত, সেটিই ছিল তখন তাদের পর্যালোচনার অন্যতম প্রধান উৎস।
দুঙ্গার মতে, প্রতিপক্ষকে বিশ্লেষণ করা কেবল প্রথম ধাপ। তবে সেই পরিকল্পনা মাঠে বাস্তবায়ন করাটাই আসল চ্যালেঞ্জ। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, সংগৃহীত তথ্য যদি মাঠের কৌশলে কাজে না লাগানো যায়, তবে সেই বিশ্লেষণের কোনো মূল্য নেই। বিশ্বকাপে প্রতিটি ম্যাচই বাঁচা-মরার লড়াই, যেখানে একটি ছোট ভুল পুরো টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দিতে পারে। তাই প্রতিদিন নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার মানসিকতা রাখা জরুরি।
সাফল্যের জন্য ত্যাগের মহিমা তুলে ধরে এই সাবেক ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার বলেন, বিশ্বকাপ জয়ের জন্য যে মূল্য চুকাতে হয় তা অনেক বেশি, কিন্তু প্রাপ্তির আনন্দ তার চেয়েও বিশাল। টুর্নামেন্ট চলাকালীন বাইরের জগত থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকার গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, এই ৩০ দিনের জন্য পরিবারসহ দুনিয়ার সবকিছু ভুলে গিয়ে কেবল লক্ষ্য অর্জনে মনোযোগী হতে হবে। অনেকের কাছে বিষয়টি কঠোর মনে হলেও শিরোপা জয়ের জন্য এমন কঠোর শৃঙ্খলা আর নিবেদনকেই অপরিহার্য বলে মনে করেন সেলেসাওদের এই কিংবদন্তি অধিনায়ক।
