সাফ জয়ী মেয়েদের রাজসিক প্রত্যাবর্তন

থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আয়োজিত প্রথম সাফ উইমেন’স ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতে রাজকীয় বেশে দেশে ফিরেছেন সাবিনা খাতুন ও তার দল। অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশের মাটিতে পা রাখতেই তাদের বরণ করে নেওয়া হয় অভূতপূর্ব ফুলেল শুভেচ্ছায়।

বিমানবন্দরের ভিআইপি গেটের বাইরে আগে থেকেই অপেক্ষমান ছিল চ্যাম্পিয়নদের ছবি দিয়ে মোড়ানো বিশেষ ছাদখোলা বাস। সাবিনা-কৃষ্ণাদের একনজর দেখতে আর অভিনন্দন জানাতে রাস্তার দুই পাশে ভিড় জমান হাজারো ফুটবলপ্রেমী। ব্যানারে, প্ল্যাকার্ডে আর স্লোগানে চারদিকে তখন উৎসবের আমেজ।

অধিনায়ক সাবিনা খাতুন যখন বাম হাতে ট্রফি আঁকড়ে আর গলায় ফুলের মালা জড়িয়ে বাইরে এলেন, তখন সবার চোখে-মুখে ছিল অর্জনের তৃপ্তি। এটি সাবিনার নেতৃত্বে তৃতীয়বার ছাদখোলা বাসে বিজয় মিছিলের সাক্ষী হলো দেশ। এর আগে ২০২২ ও ২০২৪ সালেও তারা সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছিলেন। এবারের ফুটসাল ট্রফি জয়ের নায়ক ইরানি কোচ সাঈদ খোদারাহমির হাসিতেও ছিল প্রথম শিরোপার গৌরব। কৃষ্ণা রানী সরকার, মাসুরা পারভীন আর মাতসুশিমা সুমাইয়ারা যখন ফ্রেমবন্দী হচ্ছিলেন, তখন ভক্তদের ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে বিমানবন্দর এলাকা।

ভিড় ঠেলে ছাদখোলা বাসে ওঠার সময় উপর থেকে ঝরছিল ফুলের পাপড়ি। বাসের ওপরে উঠে সাবিনা ও তার সতীর্থরা ট্রফি উঁচিয়ে সমর্থকদের অভিবাদনের জবাব দেন। কেউ কেউ পরম মমতায় জড়িয়ে ধরেন লাল-সবুজের বিশাল পতাকা। জনপ্রিয় গানের তালে সেলফি তোলা আর নিজেদের মধ্যে আনন্দ ভাগাভাগি করার ফাঁকেই বাসটি যাত্রা শুরু করে হাতিরঝিলের এম্ফি থিয়েটারের দিকে, যেখানে তাদের জন্য বিশেষ সংবর্ধনার আয়োজন করেছে বাফুফে। সাত দলের এই টুর্নামেন্টে ছয় জয় ও এক ড্র নিয়ে বাংলাদেশ কেবল চ্যাম্পিয়নই হয়নি, ১৪ গোল করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার মুকুটও নিজের করে নিয়েছেন অধিনায়ক সাবিনা খাতুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back To Top