মরুশহরের উত্তাপ পেরিয়ে এবার ফুটবলের মহাযজ্ঞ বসছে উত্তর আমেরিকার আঙিনায়। ২০২৬ বিশ্বকাপ স্রেফ একটি টুর্নামেন্ট নয়, বরং ৪৮ দলের এক বিশাল রণক্ষেত্র, যার উন্মাদনা এরই মধ্যে আছড়ে পড়ছে ভক্তদের হৃদয়ে। আর এই উত্তেজনার পারদ আরও উসকে দিয়েছে সাম্প্রতিক এক ভবিষ্যদ্বাণী। মার্কিন মুলুকের বিশ্বখ্যাত প্রেডিকশন মার্কেটগুলো যখন বর্তমান ফর্ম আর পরিসংখ্যানের চুলচেরা বিশ্লেষণ করছে, তখন সেখানে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরার দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে থাকছে স্পেনের ‘লা রোহা’রা।
গেল বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের মগডালে বসে থাকা স্পেন যেন এক অপরাজেয় শিল্পের নাম। মাঠের সবুজ গালিচায় তাদের পাসিং ফুটবলের শৈল্পিক কারুকাজ আর ধারাবাহিক পারফরম্যান্স লগ্নিকারীদের বাধ্য করছে তাদের ওপর বাজি ধরতে। ১৬ শতাংশ সম্ভাবনা নিয়ে তারা তালিকার শীর্ষে থাকলেও ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে হ্যারি কেইনদের ইংল্যান্ড। আভিজাত্য আর তারুণ্যের মিশেলে গড়া থ্রি লায়ন্সদের সম্ভাবনা ১৫ শতাংশ। যদিও তাদের কপালে লেগে থাকা বড় আসরে ব্যর্থতার তিলক মুছতে হলে করতে হবে কোনো অলৌকিক কিছু। অন্যদিকে, গতবারের রানার্সআপ ফ্রান্স বরাবরের মতোই নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে তালিকার তিনে অবস্থান করছে।
তবে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ যেখানে নিহিত, সেই ল্যাটিন আমেরিকান দুই পরাশক্তিকে নিয়ে চলছে অন্যরকম এক সমীকরণ। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা—যাদের লড়াই মানেই পৃথিবীর দুই ভাগ হয়ে যাওয়া, এবারের প্রেডিকশন মার্কেটে তাদের অবস্থান যেন মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। ট্রফি জয়ের দৌড়ে সেলেসাও এবং আলবিসেলেস্তেদের সম্ভাবনা এখন অবধি সমানে সমান। দীর্ঘদিনের শিরোপা খরা কাটাতে মরিয়া ব্রাজিল যেমন নিজেদের ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে নামবে, তেমনি বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা চাইবে তাদের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট ধরে রাখতে।
অবশ্য এই আগাম বার্তা বা গণকদের হিসেবনিকেশই শেষ কথা নয়। ফুটবল অনিশ্চয়তার খেলা বলেই এত সুন্দর। মাঠের লড়াই শুরু হতে এখনো মাস পাঁচেক বাকি; ঘোষণা হয়নি চূড়ান্ত স্কোয়াড, জানা নেই কার চোট কিংবা ফর্মের উত্থান-পতন। সব ছাপিয়ে এই গাণিতিক সম্ভাবনাগুলো এখন কেবলই কৌতূহলের খোরাক। শেষ পর্যন্ত সেই সোনালি ট্রফিটা কার হাতে শোভা পাবে, তা জানতে হয়তো আমাদের অপেক্ষা করতে হবে সেই চূড়ান্ত বাঁশি বাজার মুহূর্তটি পর্যন্ত।
