২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল মাঠে গড়ানোর আগেই বড় এক চমক নিয়ে হাজির হলো ব্রাজিল। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সফল দল সেলেসাওদের ডাগআউটে কার্লো আনচেলত্তির দীর্ঘস্থায়ী উপস্থিতির বিষয়টি এখন প্রায় নিশ্চিত।
ইতালিয়ান এই অভিজ্ঞ কোচ নিজেই জানিয়েছেন যে, ২০২৬ বিশ্বকাপের পরও ব্রাজিলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন চালিয়ে যেতে তিনি নতুন চুক্তিতে সই করতে যাচ্ছেন। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে এই নতুন চুক্তির ফলে ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ব্রাজিল দলের প্রধান কারিগর হিসেবে দেখা যাবে তাকে।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মাটিতে অনুষ্ঠেয় আসন্ন বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই চুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। আন্তর্জাতিক ফুটবলের আঙিনায় ব্রাজিলের মতো দলের দায়িত্ব নেওয়াকে নিজের ক্যারিয়ারের নতুন এবং আনন্দদায়ক এক অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন ৬৬ বছর বয়সী এই কোচ।
একটি সাক্ষাৎকারে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট করেছেন, ব্রাজিলের সঙ্গে আরও চার বছরের জন্য চুক্তি নবায়ন করতে তিনি মানসিকভাবে প্রস্তুত। রিয়াল মাদ্রিদের ডাগআউটে দীর্ঘ সফল অধ্যায় শেষ করে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে নেইমার-ভিনিসিয়ুসদের দায়িত্ব নিয়েছিলেন তিনি।
বিশ্বকাপের লড়াইয়ে ব্রাজিলকে সবসময়ই হট ফেবারিট হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তবে এবারের প্রেক্ষাপট কিছুটা ভিন্ন। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ফর্ম বিচারে স্পেন, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স কিংবা ইংল্যান্ডের চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে থেকেই মিশন শুরু করবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০২ সালের পর থেকে দীর্ঘ ২৪ বছরের শির খরা কাটানোর যে হাহাকার ব্রাজিলের ফুটবলে বিরাজ করছে, আনচেলত্তির হাত ধরেই সেই অপেক্ষার অবসান ঘটবে বলে সমর্থকরা বুক বেঁধেছেন। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের পঞ্চম স্থানে থাকা দলটির জন্য টানা দুটি বিশ্বকাপে আনচেলত্তির মতো একজন কিংবদন্তিকে পাওয়া নিশ্চিতভাবেই বড় অনুপ্রেরণা।
এদিকে আনচেলত্তির এই সিদ্ধান্ত ব্রাজিল শিবিরে স্বস্তি ফেরালেও ইউরোপের বেশ কিছু ক্লাবের জন্য তা হতাশার খবর হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মতো বড় ক্লাবগুলো তাদের ভবিষ্যতের পরিকল্পনায় এই ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ডকে রাখার স্বপ্ন দেখেছিল। বিশ্বকাপ শুরু হতে যখন আর মাত্র হাতেগোনা কয়েক মাস বাকি, তখন মাঠের প্রস্তুতির পাশাপাশি প্রশাসনিক কিছু জটিলতা নিয়েও আলোচনা চলছে ফুটবল বিশ্বে। তবে সব ছাপিয়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে শুধুই কার্লো আনচেলত্তি এবং ব্রাজিলের এই দীর্ঘ পথচলার অঙ্গীকার।
