৩৪ পূর্ণ করলেন ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমার জুনিয়র। ক্যারিয়ারের সূর্য হেলে যাওয়ার এই সময়ে এসেও তার পরিসংখ্যান বলছে, আধুনিক ফুটবলের দুই মহাতারকা লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর চেয়ে খুব একটা পিছিয়ে নেই তিনি।
২০০৯ সালে সান্তোসের হয়ে যখন ১৭ বছরের এক কিশোরের অভিষেক হয়েছিল, ফুটবল বিশ্ব তখনই বুঝেছিল ব্রাজিলের পরবর্তী পোস্টার বয় হতে যাচ্ছেন এই প্রতিভাধর ফুটবলার। বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যমের বিশাল চাপ আর ভক্তদের পাহাড়সম প্রত্যাশা থাকলেও নেইমার কখনো দমে যাননি। বরং গত দেড় দশকে নিজেকে প্রমাণ করেছেন আধুনিক ফুটবলের তৃতীয় সেরা ফুটবলার হিসেবে।
অনেকেই আক্ষেপ করে বলেন, লিওনেল মেসি এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মতো দুই কিংবদন্তির সমসাময়িক না হলে নেইমারের হাতে অন্তত একটি ব্যালন ডি’অর শোভা পেত। বিশেষ করে ২০১৪-১৫ মৌসুমে বার্সেলোনার ট্রেবল জয়ে তার অবিশ্বাস্য ভূমিকা বা পিএসজিতে তার ব্যক্তিগত নৈপুণ্য তাকে এই পুরস্কারের শক্ত দাবিদার করে তুলেছিল। তবে চোট আর দীর্ঘ মেয়াদে মাঠের বাইরে থাকা নেইমারের ক্যারিয়ারকে কিছুটা ম্লান করেছে। ৩৬ বা ৩৭ বছর বয়সেও মেসি-রোনালদো যেভাবে ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন, নেইমার সেই দীর্ঘমেয়াদী ফিটনেস ধরে রাখতে পারেননি। ৩৪ বছর বয়সে এসে এখন তাকে প্রায়ই ইনজুরির সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে।
তবে ইনজুরি সত্ত্বেও ৩৪ বছর বয়সে নেইমারের পরিসংখ্যান রীতিমতো চমকে দেওয়ার মতো। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে ৭৪৭ ম্যাচে নেইমারের গোলসংখ্যা ৪৫০ এবং অ্যাসিস্ট ২৮৮টি। একই বয়সে মেসির গোলসংখ্যা ছিল ৭৪৫ এবং রোনালদোর ছিল ৬৭৭টি।
যদিও মেসি এবং রোনালদো নেইমারের চেয়ে অনেক বেশি ম্যাচ খেলেছেন, কিন্তু প্রতি মিনিটে গোলের অবদানের হিসেবে নেইমার সিআরসেভেনের চেয়েও এগিয়ে। পরিসংখ্যান বলছে, নেইমার প্রতি ৮২.৯ মিনিটে একটি গোল বা অ্যাসিস্ট করেছেন, যেখানে রোনালদোর এই গড় ছিল ৮৫.৭ মিনিট। এই তালিকার শীর্ষে থাকা মেসি অবশ্য ৩৪ বছর বয়সে প্রতি ৭১.৬ মিনিটে গোল বা অ্যাসিস্টে অবদান রেখে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন। তাই ম্যাচে পিছিয়ে থাকলেও কার্যকারিতার বিচারে নেইমার আজও ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা এক জাদুকর।
