মরুর বুকে অনিশ্চয়তার মেঘ কেটে অবশেষে উত্তর আমেরিকার আকাশে উদিত হলো সেই চেনা সূর্য! হ্যাঁ, ফুটবলপ্রেমীদের বুক দুরুদুরু কাঁপিয়ে, সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ব্রাজিলের চূড়ান্ত বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নিয়েছেন ফুটবলের ‘পোস্টার বয়’ নেইমার জুনিয়র।
যখন ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড কার্লো আনচেলত্তি ২৬ সদস্যের সেলেসাও স্কোয়াড ঘোষণা করছিলেন, পুরো হলের চোখ ছিল একজনের নামের ওপর। আর ঠিক যখনই আনচেলত্তির ঠোঁট গলে উচ্চারিত হলো ‘নেইমার’ নামটি, উপস্থিত জনতা আর নিজেদের ধরে রাখতে পারেনি! করতালির গর্জন আর আনন্দ-উল্লাসে ফেটে পড়ে পুরো প্রেস কনফারেন্স রুম। ব্রাজিলিয়ানদের দীর্ঘদিনের প্রার্থনা যেন এক নিমেষেই সত্যি হলো।
তবে দল ঘোষণার পরেই অবধারিতভাবে প্রশ্ন ওঠে—কেমন আছেন নেইমার? কতটুকু প্রস্তুত তিনি? সংবাদ সম্মেলনে এসে সেই রহস্যের জট খুলেছেন খোদ কোচ আনচেলত্তি। কিছুটা গম্ভীর কিন্তু আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে ইতালিয়ান এই ট্যাকটিশিয়ান জানিয়েছেন, তারা পুরো বছরজুড়েই নেইমারের ওপর কড়া নজর রেখেছিলেন। গত বছর সে ধারাবাহিকভাবে মাঠে ছিল এবং এই মুহূর্তে তার শারীরিক অবস্থা বেশ ভালো। আনচেলত্তির সাফ কথা, এই বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞে নেইমার ব্রাজিলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন খোলয়াড়।
তবে নাটকের এখানেই শেষ নয়! আনচেলত্তি একই সাথে একচুলও ছাড় না দেওয়ার বার্তা দিয়ে মনে করিয়ে দিয়েছেন, দলে নেইমারের ভূমিকা আর দায়িত্ব বাকি ২৫ জন খেলোয়াড়ের মতোই সমান—সে মূল একাদশে খেলুক কিংবা বেঞ্চে বসে থাকুক। নেইমারের অতীত চোটের ইতিহাসের দিকে ইঙ্গিত করে কোচ জানান, তারা মূলত তার ফিটনেসটাই নিখুঁতভাবে যাচাই করেছেন, কারণ নেইমারের মূল যুদ্ধটা বরাবরই ছিল তার নিজের শরীরের সাথে।
নাটকীয় এই স্কোয়াড ঘোষণার শেষ অঙ্কে কোচ আনচেলত্তি অবশ্য নেইমার-ভক্তদের আশার পালে নতুন হাওয়া দিয়েছেন। তিনি যোগ করেছেন, সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে নেইমার নিয়মিত খেলেছে এবং বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের আগে নিজেকে আরও ধারালো করার পর্যাপ্ত সুযোগ সে পাবে। আনচেলত্তির বিশ্বাস, বিশ্বকাপের মতো মেগা টুর্নামেন্টে নেইমারের অভিজ্ঞতা এবং সেলেসাও জার্সির প্রতি তার বুকভরা ভালোবাসা ড্রেসিংরুমে এমন এক জাদুকরী পরিবেশ তৈরি করবে, যা পুরো দলকে এনে দেবে বিশ্বজয়ের সেরা পারফরম্যান্স!
এখন দেখার বিষয়, আনচেলত্তির এই ভরসার প্রতিদান হেক্সা মিশনের মাঠে নেইমার কীভাবে দেন!
