২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে এখন সবচেয়ে বড় আলোচিত নাম নেইমার জুনিয়র। ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে দাঁড়িয়ে থাকা এই ফরোয়ার্ডের বিশ্বকাপ দলে থাকা না থাকা নিয়ে যখন ফুটবল দুনিয়া দ্বিধাবিভক্ত, ঠিক তখনই এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসারলেন সেলেসাও কিংবদন্তি রোমারিও।
১৯৯৪ বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নেইমারকে ছাড়া ব্রাজিল জাতীয় দল আর দশটা সাধারণ দলের মতোই সাদামাটা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রোমারিও বলেন, নেইমারের অনুপস্থিতি ব্রাজিলের হেক্সা জয়ের স্বপ্নকে আরও কঠিন করে তুলবে। নেইমারের ফিটনেস নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকলেও এই কিংবদন্তি স্ট্রাইকারের মতে, নেইমার যদি তার শারীরিক সক্ষমতার ৭০ শতাংশও ফিরে পান, তবে সেটিই প্রতিপক্ষের মনে ত্রাস ছড়ানোর জন্য যথেষ্ট হবে।
ব্রাজিল দলের বর্তমান কোচ কার্লো আনচেলত্তি অবশ্য কিছুটা রক্ষণাত্মক পথে হাঁটছেন। তিনি পরিষ্কার করে দিয়েছেন, নেইমারকে দলে নিতে হলে তাকে শতভাগ ফিট হতে হবে। তবে আনচেলত্তির এই দর্শনের সঙ্গে একমত নন রোমারিও। তার মতে, নেইমারের উপস্থিতি দলের আত্মবিশ্বাস যে স্তরে নিয়ে যায়, তা বর্তমান দলের আর কোনো ফুটবলারের পক্ষে সম্ভব নয়।
নেইমারকে ছাড়া ব্রাজিল গত কয়েক বছরে যে খুব একটা সুবিধাজনক অবস্থায় নেই, তা পরিসংখ্যানও বলছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে উরুগুয়ের বিপক্ষে এসিএল ইনজুরিতে পড়ার পর থেকে নেইমার মাঠের বাইরে আছেন। এই দীর্ঘ সময়ে ব্রাজিল ২৬টি ম্যাচ খেলে মাত্র ১১টিতে জয় পেয়েছে, যার মধ্যে ২০২৪ কোপা আমেরিকার কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতাও রয়েছে।
নেইমারহীন এই সময়ে ব্রাজিলের ডাগআউটে বারবার পরিবর্তন এসেছে। ফার্নান্দো দিনিজ থেকে শুরু করে দরিভাল জুনিয়র এবং এখন কার্লো আনচেলত্তির অধীনে দলটি থিতু হওয়ার চেষ্টা করছে। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ব্রাজিলের বর্তমান অবস্থান এবং মাঠের পারফরম্যান্স নিয়ে ফুটবল ভক্তদের মনে যে শঙ্কা দানা বেঁধেছে, রোমারিও যেন ঠিক সেই সুরেই কথা বললেন।
নেইমার তার শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং বিশ্বকাপের আগে নিজেকে প্রমাণের শেষ সুযোগটি খুঁজছেন। এখন দেখার বিষয়, কিংবদন্তি রোমারিওর এই আক্ষেপ ঘুচিয়ে নেইমার কি পারবেন আরও একবার ব্রাজিলের হলুদ জার্সি গায়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে জাদু দেখাতে।
