সবুজ গালিচায় যখন এমবাপ্পে বা ভিনিসিয়াসরা পায়ের জাদুতে বিশ্ব মাতাবেন, ঠিক তখন মাঠের বাইরে চার পায়ে টহল দেবে একদল ‘ধাতব শিকারি’। তারা ঘাস খায় না, হাঁড় চিবোয় না, এমনকি অকারণে ঘেউ ঘেউও করে না। তবে বিপদে পড়লে আপনার ত্রাতা হয়ে উঠতে পারে এই যান্ত্রিক বন্ধুরা। বলছি মেক্সিকো পুলিশের নতুন সংযোজন রো7বট কুকুরের কথা।
কেন এই যান্ত্রিক পাহারাদার?
আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপের নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র করতে মেক্সিকো কর্তৃপক্ষ এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ঘোষণা দিয়েছে। বিশেষ করে মনতেরে মহানগর এলাকার গুয়াদালুপে শহর কর্তৃপক্ষ প্রায় ২৫ লাখ পেসো (১ লাখ ৪৫ হাজার ডলার) খরচ করে এই রোবটগুলো সংগ্রহ করেছে।
কী করবে এই রোবট কুকুর?
নিরাপত্তা বাহিনীর ভাষায়, এই রোবটগুলো হবে পুলিশের ‘চোখ ও কান’। এদের প্রধান কাজগুলো হলো:
- বিপজ্জনক এলাকায় প্রবেশ: যেখানে মানুষের যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ, সেখানে এই রোবট অনায়াসেই ঢুকে পড়বে।
- লাইভ ভিডিও স্ট্রিমিং: সরাসরি ভিডিওর মাধ্যমে পরিস্থিতি কন্ট্রোল রুমে পাঠাবে, যা দেখে পুলিশ দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
- সিঁড়ি বা বাধা অতিক্রম: ভিডিওতে দেখা গেছে, পরিত্যক্ত ভবনের সিঁড়ি বেয়ে উঠতে বা দুর্গম পথে হাঁটতে এরা বেশ পটু।
- সশস্ত্র অপরাধী দমন: মহড়ায় দেখা গেছে, কোনো বন্দুকধারীর মুখোমুখি হলে লাউডস্পিকারের মাধ্যমে তাকে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দিচ্ছে এই যান্ত্রিক কুকুর।
গুয়াদালুপের মেয়র হেক্তর গার্সিয়া, আমাদের লক্ষ্য হলো সংঘাতময় পরিস্থিতিতে পুলিশ কর্মকর্তাদের সরাসরি ঝুঁকি না নিয়ে আগে রোবট পাঠিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা।
বিশ্বকাপ সূচি ও ভেন্যু
আগামী ১১ জুন মেক্সিকো সিটিতে মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠবে ফুটবল মহাযজ্ঞের। চলবে ১৯ জুলাই পর্যন্ত। এবারের আয়োজক দেশ হিসেবে মেক্সিকোর সাথে থাকছে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা। বিশেষ করে ‘এস্তাদিও মনতেরেই’ (বিবিভিএ স্টেডিয়াম) স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য চারটি ম্যাচে এই রোবটগুলোর কড়া নজরদারি থাকবে।
ফুটবল প্রেমীরা এখন কেবল গোলের অপেক্ষাতেই নন, বরং মাঠের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এই ‘মেটাল মানু’দের কারিশমা দেখতেও মুখিয়ে আছেন।
