ব্রাজিলীয় ফুটবলের রাজপুত্র নেইমার জুনিয়র কি তবে ফুরিয়ে যাচ্ছেন? এমন এক প্রশ্ন এখন ফুটবল বিশ্বের আনাচে-কানাচে ঘুরছে। ইনজুরি আর ফর্মহীনতার চোরবালিতে আটকে থাকা এই তারকা ফরোয়ার্ড সম্প্রতি তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মুখ খুলেছেন। যেখানে ঝরে পড়েছে অনিশ্চয়তা আর বাস্তবতার সুর।
প্রায় আড়াই বছর ধরে জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠের বাইরে থাকা নেইমার এখন আর দীর্ঘমেয়াদী কোনো লক্ষ্য স্থির করতে পারছেন না। বরং প্রতিটি দিনকে আলাদাভাবে গুরুত্ব দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চান তিনি। একসময় ইউরোপ কাঁপানো এই ফুটবলার সৌদি আরবের পাঠ চুকিয়ে অনেক আশা নিয়ে শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফিরলেও চোটের রাহুগ্রাস তাকে মুক্তি দেয়নি। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত হিসাব করলে দেখা যায়, তিনি মাঠের চেয়ে সাইডলাইনেই বেশি সময় কাটিয়েছেন।
সব প্রতিকূলতা ছাপিয়েও ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের মনের কোণে উঁকি দিচ্ছে ২০২৬ বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন। ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসনে বসে থাকা নেইমার জানেন, তার ফেরার পথটা আগের মতো মসৃণ নয়।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অবসরের প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। নেইমার জানিয়েছেন, ভবিষ্যৎ তার জন্য কী লিখে রেখেছে তা তিনি নিজেও জানেন না। আগামী বছরটি তার ক্যারিয়ারের গতিপথ কোন দিকে নিয়ে যাবে, তা নিয়ে তিনি এখনো দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছেন। এমনকি এই বছরের ডিসেম্বর মাসেই তিনি ফুটবলকে বিদায় বলার মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে সবকিছুই নির্ভর করছে পরিস্থিতির ওপর।
নেইমারের কাছে বর্তমান সময়টা কেবল চ্যালেঞ্জ নয় বরং অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াই। সান্তোস এবং ব্রাজিল জাতীয় দলের জন্য ২০২৬ সালটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কথা থাকলেও নেইমারের শারীরিক অবস্থা সেই স্বপ্ন পূরণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিজের ফুটবল ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নে দাঁড়িয়ে তিনি স্পষ্ট করেছেন, যদি অবসরের সিদ্ধান্ত নিতেই হয়, তবে তা আসবে তার হৃদয়ের গভীর থেকে। আপাতত কোনো সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা না করে প্রতিটি দিনকে আলাদাভাবে উপভোগ করতে এবং লড়াই চালিয়ে যেতে চান এই ব্রাজিলিয়ান পোস্টার বয়।
