বিশ্বফুটবলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে এক নজিরবিহীন উত্তাপ! জিয়ানি ইনফান্তিনোর চারশো বিশ কোটি ডলারের বিতর্কিত বাণিজ্যিক পরিকল্পনা নিয়ে ফিফা সভাপতির বিরুদ্ধে এবার সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করল ফুটবল সংস্থাগুলো। উয়েফার পর এবার ফিফার সেই প্রস্তাব ধুলিস্যাৎ করে দিয়েছে উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনক্যাকাফ।
সংস্থার ৪১টি সদস্য দেশ একজোট হয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ফিফার এই বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব বিক্রির সিদ্ধান্ত তারা কোনোভাবেই মেনে নেবে না। ইতিহাসের সবচেয়ে লাভজনক বিশ্বকাপ আয়োজনের পরও কেন ফিফাকে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে যেতে হবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ফিফার বিপুল পরিমাণ নিজস্ব আর্থিক রিজার্ভ থাকার পরও কেন ফুটবলের ভবিষ্যৎ কোনো বাইরে থেকে আসা বিনিয়োগকারীদের হাতে সঁপে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে, তা নিয়ে উঠেছে বড় আকারের নৈতিক ও প্রশাসনিক প্রশ্ন।
ইউরোপীয় ফুটবলের অভিভাবক উয়েফা যেখানে বিশ্বমঞ্চ বয়কটের মতো মারাত্মক হুমকি দিয়ে রেখেছে, কনক্যাকাফ হয়তো এখনই সেই চরম পথে হাঁটেনি, কিন্তু ফিফা সভাপতির একক সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়াকে তারা তুলে ধরেছে তীব্র সমালোচনার কাঠগড়ায়। অত্যন্ত কম সময়ে, ফিফা কাউন্সিলের অনুমোদন বা প্রশাসনিক প্রক্রিয়া তোয়াক্কা না করে যেভাবে এই প্রস্তাব চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, তাকে স্বৈরাচারী মনোভাব বলেই ইঙ্গিত করছে ফুটবলের বড় এক অংশ।
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার মতো প্রভাবশালী দেশগুলোও এখন কনক্যাকাফের এই ঐতিহাসিক অবস্থানের পেছনে শক্ত ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন ফুটবল ফেডারেশন ইতোমধ্যে প্রকাশ্যে জানিয়ে দিয়েছে, কনক্যাকাফের এই শক্ত অবস্থানের সঙ্গেই রয়েছে তারা। বিশ্বজুড়ে খেলোয়াড়দের তীব্র অসন্তোষ, ইউরোপের বয়কট আল্টিমেটাম আর এবার কনক্যাকাফের সরাসরি প্রত্যাখ্যান—সব মিলিয়ে চারদিক থেকে ঘিরে ধরা এই তোপের মুখে এখন চরম ব্যাকফুটে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
