ফুটবল কি কেবলই একটা খেলা? নাকি তার চেয়েও বেশি কিছু? মাঠের লড়াইয়ে যখন ঘাম আর রক্ত এক হয়ে যায়, তখন সেই উত্তেজনার পারদ চড়াতে এবার যোগ হচ্ছে টাকার পাহাড়। উত্তর আমেরিকার মাটিতে ২০২৬ বিশ্বকাপের বাঁশি বাজার আগেই কাঁপন ধরেছে ফুটবল দুনিয়ায়। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই শুরু হয়ে গেছে ডলারের ঝনঝনানি। ইতিহাসে এই প্রথমবার ৩২ নয়, বরং ৪৮টি দেশ নামছে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে। আর দল বাড়ার সাথে সাথে ফিফাও খুলে দিয়েছে তাদের কুবেরের ভাণ্ডার।
জানলে চমকে উঠবেন, এবার যে দল সোনালি ট্রফিটা উঁচিয়ে ধরবে, তাদের জন্য অপেক্ষা করছে রেকর্ড ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। কাতার বিশ্বকাপে মেসিরা যা পেয়েছিলেন, তার চেয়েও প্রায় ১২০কোটি টাকা বেশি পাবেন আগামী বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। রানার্স-আপ দলও কিন্তু পিছিয়ে নেই, তাদের পকেটেও ঢুকছে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। অবাক করা বিষয় হলো, গ্রুপ পর্ব থেকে যদি কোনো দল বিদায়ও নেয়, তবুও তারা খালি হাতে ফিরবে না—নিশ্চিত ভাবে প্রায় শত কোটি টাকা নিয়ে হাসিমুখেই বাড়ি ফিরবেন ফুটবলাররা।
১৯৮২ সালে ইতালির জেতা সেই নামমাত্র পুরস্কারমূল্য আজ আকাশ ছুঁয়েছে। ফিফার ভাণ্ডারে জমা হয়েছে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার এক বিশাল তহবিল। আগামী ১৯শে জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে যখন ফাইনালের বাঁশি বাজবে, তখন কেবল ফুটবলারদের ভাগ্য নয়, নির্ধারিত হবে এক বিশাল আর্থিক সাম্রাজ্যের নতুন অধিপতিও। কে হাসবে শেষ হাসি? উত্তর মিলবে মাঠেই, কিন্তু আপাতত বিশ্বফুটবল মজে আছে এই রেকর্ড গড়া পুরস্কারমূল্যের জাদুতে।
