খবরটা শুনলে হয়তো যেকোনো ফুটবলপ্রেমীর কলিজা কেঁপে উঠবে, তবে রূঢ় বাস্তব এটাই যে আর মাত্র ৩২ দিন পর গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ শুরু হতে গেলেও লাল-সবুজের এই দেশে ফিফা বিশ্বকাপ সম্প্রচার নিয়ে ঘনীভূত হয়েছে ঘোর অমানিশা। যেখানে পাড়ায় পাড়ায় পতাকা ওড়ার কথা, জার্সি কেনার ধুম পড়ার কথা, সেখানে এখন হাহাকার আর অনিশ্চয়তার সুর।
আর্থিক মারপ্যাঁচ আর সময়ের প্রতিকূলতায় এবারের বিশ্বকাপ যেন বাংলাদেশের সাধারণ দর্শকদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান যখন দেড়শ কোটি টাকার ওপর দাবি করে বসেছে, তখন ভ্যাট-ট্যাক্স মিলিয়ে সেই অঙ্কটা ঠেকেছে ২০০ কোটির পাহাড়সম উচ্চতায়। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে কোনো দেশি টিভি চ্যানেলের পক্ষে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ঢেলে স্বত্ব কেনা যেন অনেকটা আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের মতো। এমনকি টি-স্পোর্টসের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো চেষ্টা করেও এই বিশাল অর্থের ফারাক মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে।
এর ওপর মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে ম্যাচের সময়সূচি। অধিকাংশ ম্যাচই যখন ভোররাতে অনুষ্ঠিত হবে, তখন বিজ্ঞাপনদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো পিছুটান দিচ্ছে নির্ঘাত লোকসানের ভয়ে।
তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকেও এই মুহূর্তে বিশাল বাজেটের ঝুঁকি নেওয়া সম্ভব নয়। কেবল বাংলাদেশ নয়, ভারত কিংবা চীনের মতো বিশাল বাজারেও এখন বাজছে বিপদের সাইরেন। ফিফার আকাশচুম্বী চাহিদা আর বিশ্বমন্দার চাপে পড়ে এবারের বিশ্বকাপের আনন্দ কি তবে ডিজিটাল অন্ধকারেই হারিয়ে যাবে?
