ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের রাজকীয় সিংহাসনে এখন এক চরম নাটকীয়তার হাওয়া বইছে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সেলেসাওদের ঐতিহাসিক ১০ নম্বর জার্সি।
সম্প্রতি ফুটবল বিশ্বে তীব্র গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে যে, ব্রাজিলের আইকনিক ১০ নম্বর জার্সিটি এবার পেতে যাচ্ছেন রিয়াল মাদ্রিদের বর্তমান সেনসেশন ভিনিসিয়াস জুনিয়র, আর দীর্ঘদিনের অধিপতি নেইমার জুনিয়রকে নাকি সন্তুষ্ট থাকতে হবে ১৩ নম্বর জার্সি নিয়ে।
যদিও পরবর্তীতে এই খবরটি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং জানানো হয়েছে যে এখনো চূড়ান্ত জার্সি নম্বর নির্ধারণ করা হয়নি, তবুও এই গুঞ্জনই পুরো ফুটবল দুনিয়ায় বিশাল তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। প্রশ্ন উঠেছে, পেলে, জিকো, রিভালদো, রোনালদিনহো এবং কাকার মতো কিংবদন্তিদের গায়ে জড়ানো এই মহামূল্যবান ১০ নম্বর জার্সিটি কি এখনো নেইমারের প্রাপ্য, নাকি সময় এসেছে ভিনিসিয়াসের হাতে ব্রাজিলের ফুটবলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তুলে দেওয়ার?
দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এই ঐতিহাসিক জার্সির ভার নিজের কাঁধে বয়ে বেড়াচ্ছেন নেইমার। ২০১৩ সালের ২১ জুন প্রথমবার এই আইকনিক জার্সি গায়ে জড়ানোর পর থেকে দেশের মাটিতে তিনি ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে ভিনিসিয়াস জুনিয়র কেবল ব্রাজিলের বর্তমানই নন, বরং ভবিষ্যৎ ফুটবলের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
২০২৩ সালে যখন নেইমার ইনজুরির কারণে মাঠের বাইরে ছিলেন, তখনই প্রথমবার ১০ নম্বর জার্সি পরে মাঠে নেমেছিলেন ভিনিসিয়াস। এরপর থেকেই সমর্থকদের মনে এই ধারণা প্রবল হতে শুরু করে যে, ভিনিসিয়াসই হতে যাচ্ছেন সেলেসাওদের নতুন ফুটবল ঈশ্বর। এখন কোচ কার্লো আনচেলত্তির সামনে এক মস্ত বড় অগ্নিপরীক্ষা, কারণ তার স্কোয়াডে এই দুই মহাতারকাই রয়েছেন। একদিকে নেইমারের অভিজ্ঞতা, দলের ভেতর তার বিশাল প্রভাব ও সতীর্থদের কাছে তার অপরিহার্য মর্যাদা, আর অন্যদিকে ভিনিসিয়াসের ক্ষিপ্রতা ও ফর্ম। যদি দলে অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হয়, তবে হয়তো নেইমারই ১০ নম্বর জার্সিটি ধরে রাখবেন আর ভিনিসিয়াস ফিরে যাবেন তার পরিচিত ৭ নম্বর জার্সিতে।
এই ১০ নম্বর জার্সির লড়াইয়ের পেছনে লুকিয়ে আছে আরও এক রোমাঞ্চকর ইতিহাস সৃষ্টির হাতছানি। নেইমার যদি এবারও ১০ নম্বর জার্সি পরে আসন্ন বিশ্বকাপে মাঠে নামেন, তবে তিনি হবেন ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসের একমাত্র খেলোয়াড় যিনি টানা চারটি বিশ্বকাপে এই আইকনিক জার্সি পরে খেলার অনন্য রেকর্ড গড়বেন, যা ফুটবল সম্রাট পেলেকেও ছাড়িয়ে যাবে।
অথচ মজার বিষয় হলো, ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপে এক প্রশাসনিক ভুলের কারণে পেলের গায়ে কোনো রকম পূর্বপরিকল্পনা ছাড়াই লটারির মতো করে চেপে বসেছিল এই ১০ নম্বর জার্সি, যা পরবর্তীতে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ প্রতীকে পরিণত হয়।
আজ সেই অমূল্য প্রতীকের উত্তরাধিকার নিয়ে ব্রাজিলের ড্রেসিংরুম থেকে শুরু করে গ্যালারি পর্যন্ত চলছে তীব্র মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ। নেইমার কি পারবেন তার সাম্রাজ্য টিকিয়ে রেখে ইতিহাস নতুন করে লিখতে, নাকি রাজমুকুটটি চিরতরে চলে যাবে নতুন যুবরাজ ভিনিসিয়াসের মাথায়, সেই রোমাঞ্চকর উত্তর দেখার অপেক্ষায় এখন পুরো বিশ্ব।
