বিশ্বকাপের মহোৎসব শুরু হতে আর মাত্র হাতে গোনা কয়েকটা দিন বাকি। ঠিক এমন এক মুহূর্তে ফুটবল দুনিয়ার হৃদকম্পন বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্রাজিলের প্রাণভোমরা নেইমার জুনিয়র। ডান পায়ের কাফের চোটে আক্রান্ত এই তারকা যখন মাঠের বাইরে, তখন পুরো সেলেসাও শিবির যেন রুদ্ধশ্বাসে প্রহর গুনছে। মরক্কোর বিপক্ষে আগামী শনিবারের হাইভোল্টেজ ম্যাচ দিয়ে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হতে যাচ্ছে, অথচ তাদের প্রধান সেনাপতিই এখনো পুরোপুরি ফিট নন। এই ঘোর সংকটের মাঝেই এবার এক অবিশ্বাস্য ও নাটকীয় মোড় নিয়েছে নেইমারের চোটের গল্প। নিজের চোট সারাতে মাঠের এই জাদুকর এবার শরণাপন্ন হয়েছেন খোদ মহাকাশ গবেষণার বিজ্ঞানের।
বিশ্বকাপে খেলার অদম্য ইচ্ছা থেকে নেইমার এখন ব্যবহার করছেন মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার তৈরি করা বিশেষ প্রযুক্তি। সাধারণ কোনো চিকিৎসা বা জিম সেশন নয়, ব্রাজিলের এই পোস্টার বয় নিজেকে সঁপে দিয়েছেন একটি অ্যান্টি-গ্র্যাভিটি বা মহাকর্ষহীন ট্রেডমিলের ওপর।
নাসার প্রকৌশলীদের আবিষ্কৃত এই বিশেষ প্রযুক্তির কল্যাণে নেইমার এমন এক কৃত্রিম পরিবেশে দৌড়াতে পারছেন, যেখানে তার শরীরের ওজন এবং পায়ের ওপর অভিকর্ষজ বলের চাপ অনেকটাই কমে যায়। ফলে চোটাক্রান্ত স্থানে কোনো বাড়তি আঘাত বা চাপ ছাড়াই তিনি অনায়াসে রানিং সেশন চালিয়ে যেতে পারছেন। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্রীড়াবিদদের পুনর্বাসনে এই প্রযুক্তি ব্যবহার হলেও, নেইমারের এই অগ্নিপরীক্ষার মুহূর্তে এটি যেন এক দৈব শক্তির মতো হাজির হয়েছে।
ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ভক্তদের জন্য প্রতিটি মুহূর্ত এখন যেন এক একটি যুগের সমান। আজ সোমবার নেইমারের পায়ের চোটের বর্তমান অবস্থা জানতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইমেজিং পরীক্ষা করা হচ্ছে। এই পরীক্ষার রিপোর্টের ওপরই ঝুলে আছে কোটি ভক্তের স্বপ্ন আর ব্রাজিলের হেক্সা মিশনের ভাগ্য। যদি চিকিৎসকেরা সবুজ সংকেত দেন, তবেই নেইমার তার শারীরিক পুনর্বাসনের পরবর্তী ধাপে পা রাখবেন এবং ট্র্যাকে ফেরার আনুষ্ঠানিক লড়াই শুরু করবেন। তবে বল পায়ে মাঠে নামার জন্য তাকে আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে। পুরো ব্রাজিল দল এখন এক অদ্ভুত টানটান উত্তেজনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে—নাসার এই মহাকাশ প্রযুক্তি কি পারবে নেইমারকে মরক্কোর বিপক্ষে মাঠে নামাতে, নাকি ফুটবল বিধাতা অন্য কোনো চিত্রনাট্য লিখে রেখেছেন, তার উত্তর মিলবে আর মাত্র কয়েকটা দিন পরেই।
