ব্রাজিল ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে এখন এক চরম উত্তেজনা আর উৎকণ্ঠার দোলাচল! গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের মঞ্চ মাতাতে দলবল নিয়ে ট্রাভেল ব্যাগ গুছিয়ে মারাকানার দেশ এখন আমেরিকার মাটিতে। কিন্তু ভিন দেশে পা রাখার সাথে সাথেই যেন একরাশ মেঘ এসে ভর করেছে সেলেসাও শিবিরে। সবার মনে এখন একটাই প্রশ্ন, ইনজুরি আক্রান্ত সুপারস্টার নেইমার কি পারবেন বিশ্বজয়ের মিশন শুরু করতে, নাকি সাইডবেঞ্চে বসেই কাটবে তার এবারের বিশ্বকাপ?
তবে দলের এই কঠিন মুহূর্তেও একদম বরফশীতল শান্ত মাথায় দাঁড়িয়ে আছেন মাস্টারমাইন্ড কার্লো আনচেলত্তি। দলের সবচেয়ে বড় অস্ত্রকে নিয়ে কোনো তাড়াহুড়ো বা ঝুঁকি নিতে একদমই নারাজ এই ইতালিয়ান ডিরেক্টর।
নিউইয়র্কের মাটিতে পা রেখেই যেন এক বুক আত্মবিশ্বাস নিয়ে তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়ে দিলেন, নেইমারকে নিয়ে তাদের কোনো তাড়া নেই। তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন এবং ব্রাজিলের প্রথম বা দ্বিতীয় ম্যাচেই দেখা যেতে পারে এই ফুটবল জাদুকরকে। মাত্র কিছুদিন আগেই দলের ডাক্তার রদ্রিগো লাসমার যখন জানালেন নেইমারের কাফ ইনজুরির খবর, তখন কোটি ভক্তের বুক কেঁপে উঠেছিল। কিন্তু আনচেলত্তির এই আশার বাণী যেন একটু হলেও স্বস্তি দিচ্ছে পুরো ফুটবল বিশ্বকে।
৩৪ বছর বয়সী নেইমারের এবারের স্কোয়াডে থাকাটাই ছিল এক মস্ত বড় চমক। প্রায় তিন বছর দলের বাইরে থাকা, একের পর এক ইনজুরির সাথে লড়াই; সব মিলিয়ে অনেকেই তার শেষ দেখে ফেলেছিলেন। কিন্তু ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে কি আর এভাবে ফেলে রাখা যায়? এটি হতে যাচ্ছে তার চতুর্থ বিশ্বকাপ, আর তাই অলৌকিক কিছু করে দেখানোর তাড়না তার ভেতরেও কম নয়।
যদিও এবারের ব্রাজিল দল সেই চেনা আগ্রাসী রূপে নেই, দক্ষিণ আমেরিকার বাছাইপর্বে পাঁচ নম্বরে থেকে শেষ করা কিংবা ফ্রান্স, জাপান আর বলিভিয়ার কাছে হেরে যাওয়া দলটির দিকে অনেকেই বাঁকা চোখে তাকাচ্ছেন। কিন্তু আনচেলত্তি হুংকার দিয়ে মনে করিয়ে দিয়েছেন, ব্রাজিলকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। মাঠে তারা কাউকেই ছেড়ে কথা বলবেন না। আর অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরোও যেন স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ঘরের মাঠে মানুষ শুধু ট্রফিটাই চেনে।
১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে সেলেসাওদের মিশন, এরপর গ্রুপ পর্বে আছে হাইতি আর স্কটল্যান্ড। পুরো বিশ্ব এখন চাতক পাখির মতো চেয়ে আছে, নেইমারের পায়ে বলের জাদু আর ব্রাজিলের হেক্সা জয়ের স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত কোন নাটকীয় সমাপ্তির দিকে এগিয়ে যায়!
