ফিফার বিশ্বকাপে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার বিক্রির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আসন্ন বিশ্বকাপ বয়কটের নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থাগুলো। উয়েফার ৫৫টি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের এক জরুরি ভার্চুয়াল সভায় সর্বসম্মতভাবে এই বয়কটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার নতুন বাণিজ্যিক নীতির বিরুদ্ধে ইউরোপের এমন কঠোর অবস্থান ক্রীড়াবিশ্বে বড় ধরণের তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর একটি নতুন প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে। সম্প্রতি তিনি ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান গঠনের পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল ফিফার বাণিজ্যিক স্বত্ব ও বিভিন্ন টুর্নামেন্ট পরিচালনার দায়িত্বকে একীভূত করা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার মূল্যায়নের এই প্রতিষ্ঠানের একটি অংশ আন্তর্জাতিক বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে ৪২০ কোটি ডলার তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল ফিফা। জানা গেছে, সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের তালিকায় মার্কিন ধনকূপ জশুয়া কুশনারের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান থ্রাইভ ইটারনালসহ একাধিক প্রভাবশালী বাণিজ্যিক গোষ্ঠী রয়েছে।
তবে ফিফার এই উদ্যোগকে শুরু থেকেই ইতিবাচকভাবে নেয়নি ইউরোপের ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা। তাদের সাফ বক্তব্য, ফুটবলের ঐতিহ্য, আত্মা এবং এর প্রশাসনিক পরিচালনা ব্যবস্থা কোনোভাবেই বেচা-কেনোর পণ্য হতে পারে না। এই বাণিজ্যকীকরণের বিরুদ্ধে উয়েফা ও ইউরোপীয় দেশগুলোর দীর্ঘদিনের ক্ষোভের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটে বৃহস্পতিবারের বৈঠকে, যেখানে একজোট হয়ে সদস্যরা বয়কটের পক্ষে ভোট দেন।
উয়েফার এই কঠোর অবস্থানের কারণে ফুটবলের আগামী কয়েকটি বড় আসর চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বিশ্ব ফুটবলের নির্ধারিত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, আগামী গ্রীষ্মে ব্রাজিলে বসবে নারী বিশ্বকাপের আসর। এছাড়া ২০৩০ সালে পুরুষদের বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করার কথা স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোর। উয়েফার এই বয়কট সিদ্ধান্ত বহাল থাকলে দুটি টুর্নামেন্টই বড় ধরনের সংঙ্কটে পড়বে, যা ফুটবলের আন্তর্জাতিক আবেদনকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
যদিও ফিফার উত্থাপিত এই বাণিজ্যিক প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের জন্য এখনো আন্তর্জাতিক সদস্য দেশগুলোর চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রয়োজন রয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগেই ইউরোপীয় ফুটবলের এমন নজিরবিহীন প্রতিবাদ ফিফা প্রশাসন ও এর প্রেসিডেন্টের ওপর এক বিশাল মনস্তাত্ত্বিক ও কূটনৈতিক চাপ তৈরি করল।
