মারাকানার সেই চিরচেনা জাদুকর কি তবে ফুরিয়ে যাচ্ছেন, নাকি কেবলই সতর্কতার চাদরে নিজেকে ঢেকে রাখছেন? ফুটবল বিশ্বের অগণিত ভক্তের মনে এখন এই একটিই প্রশ্ন। ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী ক্লাসিকো লড়াইয়ে সান্তোস আর পালমেইরাস যখন একে অপরের মুখোমুখি, গ্যালারিতে তখন কেবলই দীর্ঘশ্বাস। মাঠের লড়াই ১-১ গোলে অমীমাংসিত থাকলেও সবার নজর কেড়েছে ৩৪ বছর বয়সী মহাতারকা নেইমারের অনুপস্থিতি।
অদ্ভুত এক জেদ কিংবা সচেতনতা; কারণটা যাই হোক না কেন, আলিয়াঞ্জ পার্কে নেইমার নামেননি কেবল কৃত্রিম ঘাস বা আর্টিফিশিয়াল টার্ফের প্রতি চরম অনীহা থেকে। সান লরেঞ্জোর বিপক্ষে পুরো নব্বই মিনিট দাপিয়ে বেড়ানো নেইমার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, অভিজাত ফুটবলে সিন্থেটিক টার্ফের কোনো স্থান নেই। তার কাছে এই সারফেসে খেলা মানেই ইনজুরিকে আমন্ত্রণ জানানো, যাকে তিনি রীতিমতো ‘অযৌক্তিক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
সান্তোস যখন রেলিগেশনের কালো মেঘে ঢাকা পড়ে পয়েন্ট টেবিলের ১৬ নম্বরে ধুঁকছে, তখন দলের প্রধান সেনাপতির এমন সিদ্ধান্তে চারদিকে বয়ে যাচ্ছে সমালোচনার ঝড়। কিন্তু নেইমারের লক্ষ্য আরও উঁচুতে, আরও দূরে। ২০২৬ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দলে জায়গা পেতে কার্লো আনচেলত্তির সুনজরে থাকার লড়াই এখন তার জন্য অস্তিত্বের প্রশ্ন।
হাতে সময় খুব কম, মাত্র চারটে ম্যাচ; ব্রাগান্তিনো আর করিতিবার বিপক্ষে লড়াইয়েই তাকে প্রমাণ করতে হবে যে বুড়ো হাড়ের ভেলকি এখনো শেষ হয়ে যায়নি। আগামী ১৮ মে চূড়ান্ত দল ঘোষণার দিনই জানা যাবে, মরক্কো, হাইতি আর স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মেটলাইফ কিংবা হার্ড রক স্টেডিয়ামের সবুজ গালিচায় নেইমার ম্যাজিক দেখা যাবে কি না। বিশ্বকাপের ড্রাম বাজছে উত্তর আমেরিকায়, আর নেইমার এখন ব্যস্ত নিজের ক্যারিয়ারের শেষ অগ্নিপরীক্ষার প্রস্তুতিতে।
সূত্র: মার্কা
