মাঠের লড়াইয়ে তখনো সাম্বার ছন্দ কাটেনি, পেলের জাদুকরী পায়ে বিশ্ব জয় করে জুলে রিমে ট্রফিটা স্থায়ীভাবে নিজেদের শোকেসে তুলে নিয়েছিল ব্রাজিল। কে জানত, যে ট্রফি আগলে রাখতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ফিফার সহ-সভাপতি ওত্তোরিনো বারাসি এটিকে নিজের জুতোর বাক্সে লুকিয়ে রেখেছিলেন, সেই পরম আরাধ্য সোনালী মূর্তিটিই একদিন ধুলোয় মিশে যাবে!
১৯৮৩ সালের সেই অভিশপ্ত ডিসেম্বর রাত। রিও ডি জেনেরিওর ফুটবল কনফেডারেশনের সদর দপ্তরে যখন চোরেরা হানা দেয়, তখন খোদ ফুটবল বিধাতাও বোধহয় স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলেন।
বুলেটপ্রুফ কাঁচের আড়ালে যে ট্রফিটি থাকার কথা ছিল, তাকে স্রেফ কাঠের ফ্রেম থেকে আলাদা করে নিয়ে চম্পট দেয় দুর্বৃত্তরা। সেলেসাওদের হৃদয় ভেঙে চুরমার হয়ে যায় মুহূর্তেই।
ব্রাজিলের পুলিশ শহর চষে বেড়ালো, একের পর এক সন্দেহভাজনকে জেরা করা হলো, কিন্তু সেই ৩.৮ কেজি ওজনের সোনা-রূপার কারুকাজটি আর ফিরে আসেনি। ফুটবল পাড়ায় আজও দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলা হয়, চোরেরা হয়তো ট্রফিটি গলিয়ে সোনা হিসেবে বিক্রি করে দিয়েছিল।
তবে এই ট্রফি হারানোর নাটকীয়তা কিন্তু শুরু হয়েছিল আরও আগে, সেই ১৯৬৬ সালে। লন্ডনের প্রদর্শনী থেকে যখন ট্রফিটি গায়েব হয়ে যায়, তখন ব্রিটিশদের মান-সম্মান ছিল সুতোর ওপর।
অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, কোনো বাঘা বাঘা গোয়েন্দা নয়, বরং ‘পিকলস’ নামের এক সাধারণ কুকুর ঝোপঝাড়ের ভেতর থেকে খুঁজে বের করেছিল নিখোঁজ জুলে রিমে-কে।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত ব্রাজিলের সেই কালো রাতে আর কোনো পিকলস ত্রাতা হয়ে আসেনি। আজ যে ৪৮ দেশ নতুন বিশ্বকাপের স্বপ্নে বিভোর, তাদের সোনালী আকাঙ্খার ভিড়ে জুলে রিমে ট্রফিটি কেবলই ইতিহাসের এক বিষাদমাখা দীর্ঘশ্বাস হয়ে রয়ে গেছে। ফুটবল বিশ্ব পেল নতুন শিরোপা, কিন্তু হারিয়ে ফেলল তার আদি ও অকৃত্রিম আবেগ।
