রাজকীয় অভিবাদনে বুট জোড়া তুলে রাখলেন মামুনুল ইসলাম

দেশের ফুটবলের এক সোনালি অধ্যায়ের অবসান ঘটল। সবুজ গালিচায় আর দেখা যাবে না সেই চেনা দৌড়, মাঝমাঠ থেকে মাপা পাসে প্রতিপক্ষকে কুপোকাত করার সেই চিরচেনা দৃশ্য। মাঠ থেকে সতীর্থদের দেওয়া ‘গার্ড অব অনার’ নিয়ে রাজকীয় ভঙ্গিতেই ফুটবলকে বিদায় জানালেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম।

দেশের ফুটবলে যখন বিদায়বেলায় এমন সম্মাননা পাওয়ার নজির নেই বললেই চলে, সেখানে মামুনুলের এই বিদায় এক ইতিবাচক সংস্কৃতির জন্ম দিল। বিষণ্ণতা থাকলেও মাঠ থেকে এমন সম্মান নিয়ে বিদায় নিতে পারা যেকোনো ফুটবলারের জন্যই পরম স্বস্তির।

২০০৮ সালে যখন দেশের ফুটবল এক ক্রান্তিকাল পার করছিল, ঠিক তখনই ধ্রুবতারার মতো উদয় হয়েছিলেন তরুণ মামুনুল ইসলাম। লাল-সবুজের জার্সিতে তার সেই পথচলা থামল দীর্ঘ দেড় দশক পর। জাতীয় দলের হয়ে ৬৭টি ম্যাচ খেলা এই মিডফিল্ডার কেবল রক্ষণভাগ সামলাতেই ব্যস্ত থাকেননি, গোল করেছেন ৩টি এবং সতীর্থদের দিয়ে গোল করিয়েছেন আরও ৫টি। ২০০৯ সালে ম্যাকাওয়ের বিপক্ষে তার সেই প্রথম আন্তর্জাতিক গোলটি আজও ভক্তদের মনে গেঁথে আছে। তার নেতৃত্বগুণ আর খেলার ধরনে মুগ্ধ হয়ে ২০১৩ সালে তার কাঁধে তুলে দেওয়া হয়েছিল অধিনায়কের আর্মব্যান্ড, যা তিনি ২০১৬ সাল পর্যন্ত অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে বহন করেছেন।

মামুনুলের ক্লাব ক্যারিয়ারও ছিল সমান বর্ণাঢ্য। দেশীয় ফুটবলের গণ্ডি পেরিয়ে তিনি খেলেছেন ইন্ডিয়ান সুপার লিগের (আইএসএল) দল অ্যাটলেটিকো ডি কলকাতায়, যা দেশের ফুটবলের ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক। দেশীয় ফুটবলের এই কিংবদন্তি আজ তার বুট জোড়া তুলে রাখার ঘোষণা দিয়ে ফুটবল প্রেমীদের মনে যেমন দীর্ঘশ্বাস জমিয়েছেন, তেমনি রেখে গেছেন এক গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। বাংলাদেশ ফুটবলের এক অবিস্মরণীয় সেনাপতি হিসেবে মামুনুল ইসলামের নাম লেখা থাকবে সোনালি অক্ষরে। বিদায় ক্যাপ্টেন, বিদায় জাদুকর!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back To Top