বিশ্বফুটবলের মহাযজ্ঞ শুরু হতে আর খুব একটা বাকি নেই। আগামী ১১ জুন থেকে উত্তর আমেরিকার তিন দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় পর্দা উঠবে ৪৮ দলের মাঠের লড়াইয়ের। ফুটবল মহোৎসবের এই ক্ষণগণনায় ফিফা প্রতিদিন তুলে ধরছে দারুণ সব পরিসংখ্যান। আজকের আলোকপাতে উঠে এসেছে বিশ্বকাপের মঞ্চে ‘চার নম্বর’ জার্সির গোলপিপাসার গল্প। সাধারণত রক্ষণ সামলানো বা মাঝমাঠে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকায় দেখা যায় চার নম্বর জার্সিধারীদের, তবে আক্রমণের ধার দেখাতেও পিছিয়ে নেই তারা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত ৪১ জন ফুটবলার এই জার্সি গায়ে জড়িয়ে জালের দেখা পেয়েছেন।
এই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন ক্রোয়েশিয়ার ইভান পেরিসিচ। চার নম্বর জার্সি পরে বিশ্বমঞ্চে সর্বোচ্চ ৬টি গোল করার অনন্য কৃতিত্ব তার। দ্বিতীয় অবস্থানে যৌথভাবে আছেন জার্মানির কিংবদন্তি ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার ও অস্ট্রেলিয়ার টিম কেহিল, যাদের নামের পাশে রয়েছে ৫টি করে গোল। এছাড়া আর্জেন্টিনার ড্যানিয়েল বার্তোনি ৪টি এবং ইংল্যান্ডের স্টিভেন জেরার্ড ও মেক্সিকোর রাফা মার্কেজ ৩টি করে গোল করে চার নম্বর জার্সির মর্যাদা বাড়িয়েছেন।
ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, বিশ্বকাপের ফাইনালে গোল করে দলের ত্রাতা হয়েছেন এমন পাঁচজন ভাগ্যবান খেলোয়াড়ও পরেছিলেন এই জার্সি। ১৯৫৮ সালে ব্রাজিলের বিপক্ষে সুইডেনের নিলস লিয়েডহোম থেকে শুরু করে ২০১৮ সালে ফ্রান্সের বিপক্ষে ক্রোয়েশিয়ার পেরিসিচ পর্যন্ত অনেকেই শিরোপার লড়াইয়ে লক্ষ্যভেদ করেছেন। এর মধ্যে ১৯৬২ সালে ব্রাজিলের জিতো, ১৯৭০ সালে কার্লোস আলবার্তো এবং ১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনার বার্তোনির ফাইনালের গোলগুলো আজও ফুটবলপ্রেমীদের মনে গেঁথে আছে।
মাঠের লড়াইয়ে চার নম্বর জার্সিধারীদের আরও কিছু মুহূর্ত চিরস্মরণীয় হয়ে আছে ভক্তদের হৃদয়ে। ১৯৮২ সালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ইতালির আন্তোনিও কাবরিনি কিংবা ১৯৮৬ সালে পোল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের এদিনহোর গোলগুলো সেই তালিকার অন্যতম। এছাড়া ২০০৬ সালে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর বিপক্ষে জেরার্ডের দূরপাল্লার শট, ২০১৪ সালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে কেহিলের সেই দুর্দান্ত ভলি কিংবা ২০১৮ সালে পর্তুগালের বিপক্ষে স্পেনের নাচোর গোল দর্শকদের বুনো উল্লাসে ভাসিয়েছিল। এবারের বিশ্বকাপেও দর্শকদের নজর থাকবে মাঝমাঠ আর রক্ষণের এই যোদ্ধারা গোলপোস্টের সামনে কতটা বিধ্বংসী হয়ে উঠতে পারেন, সেই দিকে।
সোর্স: ফিফা ওয়েবসাইট
