বিশ্বকাপ টিকিটের দাম নিয়ে ট্রাম্পের টিটকারি, ‘এত টাকা দিয়ে খেলা দেখব না’

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের টিকিটের আকাশচুম্বী দাম নিয়ে এবার সরাসরি টিটকারি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে ফিফার টিকিটিং পলিসি নিয়ে বিশ্বজুড়ে যে সমালোচনা চলছে, তাতে নতুন মাত্রা যোগ করল প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য। 

নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, টিকিটের যে দাম বর্তমানে চাওয়া হচ্ছে, তা অত্যন্ত হাস্যকর এবং তিনি নিজে হলেও এই পরিমাণ অর্থ খরচ করে খেলা দেখতে যেতেন না। বিশেষ করে লস অ্যাঞ্জেলেসে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বোধনী ম্যাচের সাধারণ মানের টিকিটের দাম ১০০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছানোয় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। ট্রাম্পের মতে, কুইন্স বা ব্রুকলিনের সাধারণ মানুষ যারা তাকে ভালোবাসে, তারা যদি অর্থাভাবে এই ঐতিহাসিক টুর্নামেন্ট মাঠে বসে দেখতে না পারে, তবে সেটি হবে চরম হতাশাজনক।

ট্রাম্পের এই প্রকাশ্য সমালোচনা ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত কয়েক মাস ধরেই ইনফান্তিনো উত্তর আমেরিকায় বিশ্বকাপের প্রচারণার পাশাপাশি টিকিটের উচ্চমূল্যকে সমর্থন করে আসছিলেন। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, আমেরিকায় যেকোনো বড় মাপের খেলা দেখতে হলে অন্তত ৩০০ ডলার গুনতে হয়। তবে তার এই দাবিকে নাকচ করে দিয়েছেন ফুটবল ভক্তরা। তারা উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন যে, নিউইয়র্ক ইয়ানকিজের মতো বড় দলের বেসবল ম্যাচও সেকেন্ডারি মার্কেটে মাত্র ১০ ডলারে দেখা সম্ভব। ইনফান্তিনোর যুক্তির বিপরীতে ট্রাম্পের এই অবস্থান ফিফাকে বেশ চাপে ফেলেছে।

এদিকে টিকিটের এই অস্বাভাবিক দামের পাশাপাশি পুনঃবিক্রয় বা রিসেল মার্কেটের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ফাইনালের একটি টিকিটের দাম ২ মিলিয়ন ডলারে তালিকাভুক্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। যদিও ফিফা দাবি করছে যে টিকিটের জন্য ৫০ কোটি অনুরোধ জমা পড়েছে, কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন কথা বলছে। 

অ্যাথলেটিকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মূল ম্যাচগুলো বাদে অনেক ম্যাচের টিকিট বিক্রি করতে হিমশিম খাচ্ছে ফিফা। এমনকি হোটেলের বুকিংয়ের হারও প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম। সমালোচকদের অভিযোগ, ফিফা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে টিকিটের দাম বাড়িয়ে রাখতে চাইছে। সব মিলিয়ে মাঠের লড়াই শুরুর আগেই টিকিটের দাম নিয়ে শুরু হওয়া এই বিতর্ক আয়োজক দেশ হিসেবে আমেরিকার ভাবমূর্তি এবং ফিফার ব্যবসায়িক কৌশলের ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে।

সূত্র: মার্কা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back To Top