ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাস মানেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে কিংবদন্তি খেলোয়াড়দের জাদুকরী ড্রিবলিং কিংবা শ্বাসরুদ্ধকর সব গোল। কিন্তু মাঠের সেই মহাকাব্যের নেপথ্যে থাকেন একজন মাস্টারমাইন্ড, যিনি প্রচণ্ড চাপের মুখেও একটি দলকে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখান।
বিশ্বকাপের ডাগআউটে দাঁড়িয়ে কৌশলের লড়াইয়ে যারা শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছেন, তাদের মধ্যে জার্মানির হেলমুট শ্যোন আজও অনন্য এক উচ্চতায় আসীন হয়ে আছেন। ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জয়ের রেকর্ডটি তার দখলেই রয়েছে। ১৯৬৬ থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত পশ্চিম জার্মানির কোচের দায়িত্বে থাকাকালীন তিনি ২৫টি ম্যাচে ডাগআউটে দাঁড়িয়ে ১৬টিতেই জয় ছিনিয়ে এনেছিলেন। ১৯৭৪ সালে ঘরের মাঠে জার্মানিকে শিরোপা জেতানো এই কিংবদন্তি কোচ ফুটবল বিশ্বের কাছে এক অবিস্মরণীয় নাম।
জয়ের এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সফল কারিগর লুই ফিলিপ স্কলারি। ২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে রোনালদো, রোনালদিনহো ও রিভালদোদের নিয়ে গড়া সেই অপ্রতিরোধ্য ব্রাজিল দলকে শিরোপা জিতিয়েছিলেন তিনি। স্কলারি বিশ্বকাপে মোট ১৪টি ম্যাচে জয় পেয়েছেন।
মজার ব্যাপার হলো, ২০০২ সালের সেই আসরে স্কলারির অধীনে ব্রাজিল সাতটি ম্যাচের সবকটিতেই জয়লাভ করেছিল, যা বিশ্বকাপের এক আসরে কোনো কোচের জন্য এক অনন্য রেকর্ড। তবে বর্তমানে এই দুই কিংবদন্তির রাজত্বে ভাগ বসাতে একদম প্রস্তুত হয়ে আছেন ফ্রান্সের বর্তমান কোচ দিদিয়ের দেশম।
আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সফল এই ফরাসি কোচ ইতিমধ্যেই ১৪টি জয় নিয়ে স্কলারির পাশে জায়গা করে নিয়েছেন। ২০১৮ সালে ফ্রান্সকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন করা এবং ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে দলকে নিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে দেশম নিজেকে ইতিহাসের অন্যতম সেরা কোচ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
২০২৬ সালের আসন্ন বিশ্বকাপে তিনি তৃতীয়বারের মতো ফরাসি দলের হাল ধরবেন। উত্তর আমেরিকায় আয়োজিত হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টে ফ্রান্স যদি তাদের স্বভাবজাত ছন্দ ধরে রাখতে পারে, তবে হেলমুট শ্যোনকে ছাড়িয়ে যাওয়া দেশমের জন্য কেবল সময়ের ব্যাপার। ৪৮ দলের নতুন ফরম্যাটের এই বিশ্বকাপে দেশমের সামনে সুযোগ রয়েছে ফুটবলের ইতিহাসের পাতায় নিজেকে এককভাবে সবার উপরে তুলে ধরার। ফুটবলপ্রেমীরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন দেখার জন্য যে, মেক্সিকো, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে দেশম কি পারবেন হেলমুট শ্যোনের অর্ধশতকের পুরনো সেই রেকর্ডটি ভেঙে নতুন ইতিহাস লিখতে।
