ক্যামেরার ফ্ল্যাশ আর হাজারো দর্শকের গর্জনে কাঁপছে স্টেডিয়াম। এক যুগ আগের সেই সোনালি স্মৃতি আজও ফুটবলের ক্যানভাসে উজ্জ্বল। ২০১৪ থেকে ২০১৭, বার্সেলোনার সেই বিখ্যাত ‘এমএসএন’ ত্রয়ী! মেসি, সুয়ারেজ আর নেইমার—এই তিন নাম যখন একসঙ্গে উচ্চারিত হতো, তখন ইউরোপের তাবৎ রক্ষণভাগ ভেঙে পড়ত তাসের ঘরের মতো। তিন মৌসুমে ১২২টি গোল আর ৯টি ট্রফির সেই মায়াবী অধ্যায় ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে রাজত্ব করেছে আবেশের মতো। কিন্তু নদীর গতিপথের মতোই কি বদলে যেতে চলেছে আধুনিক ফুটবলের মানচিত্র? আবারও কি এক সুতোয় বাঁধতে যাচ্ছে সেই ঐতিহাসিক ত্রয়ী?
দৃশ্যপট এখন ব্রাজিলের সান্তোস চত্বর। সান্তোসের প্র্যাকটিস মাঠে রোদের একচিলতে আলো এসে পড়ে ঘাসে, ট্রেনিং চলে অবিরাম। কিন্তু সেই চেনা আঙিনায় যেন থেকেও নেই ৩৪ বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ান জাদুকর নেইমার। রিকভারি সেশন ফেলে রেখে গাড়ি চেপে সটান বেরিয়ে যাওয়া, কিংবা মাঠে থেকেও এক ধরনের গা-ছাড়া ভাব—সান্তোসে এখন নেইমারের দিন কাটছে এক অদ্ভুত অনিশ্চয়তায়। সান্তোসের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকলেও, ব্রাজিলের বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে অন্য এক গুঞ্জন। জাদুকর কি সান্তোসেই থাকবেন, নতুন ঠিকানায় ডানা মেলবেন, নাকি হুট করেই বিদায় বলবেন এই ভালোবাসার খেলাকে?
ঠিক এই অনিশ্চয়তার মেঘ ফুঁড়েই আড়ালে ভেসে উঠছে ইন্টার মায়ামির নাম। ফ্লোরিডার মিঠে রোদ আর আটলান্টিকের হাওয়ায় লিওনেল মেসির জাদুকরি বাঁ পা আর লুইস সুয়ারেজের ধারালো চোখ প্রতিদিন নতুন গল্প লিখছে। গত ডিসেম্বরেই বুসকেতস আর আলবার বিদায়ের পর ডেভিড বেকহামের এই স্বপ্নের প্রজেক্টে এখন এক নতুন স্পার্ক প্রয়োজন। আর সেখানে প্রিয় বন্ধু মেসির উপস্থিতি যেন নেইমারের জন্য তৈরি করে রেখেছে এক অদৃশ্য মহাকর্ষীয় টান। চোটের ছায়া আর বয়সের বাধা কাটিয়ে সেই চেনা ছটফটে শৈল্পিক স্পর্শ কি তবে এবার ছড়িয়ে পড়বে আমেরিকার মাটিতে? সান্তোসের অনিশ্চয়তা পেরিয়ে মায়ামির সৈকতে কি সত্যি আবার লেখা হবে ইতিহাসের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর সেই কবিতার নতুন পংক্তি?
