অতিলোভে ইনফান্তিনোর তাঁতী নষ্ট?

বিশ্ব ফুটবলের মসনদে এখন চরম আতঙ্ক আর নাটকীয়তার ঝড়! জিয়ান্নি ইনফান্তিনো কি তবে তার সিংহাসন হারাতে বসেছেন? ৯০ মিনিটের খেলায় ৩-০ গোলে এগিয়ে থাকা এক আত্মবিশ্বাসী নেতার মতো ইনফান্তিনোর চতুর্থ মেয়াদে ফিফা সভাপতি হওয়াটা যখন স্রেফ সময়ের ব্যাপার মনে হচ্ছিল, ঠিক তখনই সব হিসেব নিকেশ উল্টে গেছে যোগ হওয়া সময়ের কয়েকটি আত্মঘাতী গোলে। বিশ্বকাপসহ ফুটবলের বড় টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করার সেই গোপন ও বিতর্কিত পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে ফিফা। আর এর মাধ্যমেই বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে ক্ষমতাধর এই মানুষটি এখন মুখোমুখি হয়েছেন এক চরম রাজনৈতিক সংকটের।

গত ২০১৬ সালে সেপ ব্লাটারের পতনের পর স্বচ্ছতার বুলি আওড়ে যিনি ফিফা সিংহাসনে বসেছিলেন, ধীরে ধীরে তাঁর মাঝেই প্রকাশ পেয়েছে এক স্বৈরাচারী ও একনায়কতান্ত্রিক মনোভাব। কাতার বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে সৌদি আরবের কাছে একক সিদ্ধান্তে ২০৩৪ সালের বিশ্বকাপ তুলে দেওয়া—সবকিছুই এতদিন ফিফার রাজকোষ ভরাট করার জাদুকরি ক্ষমতার জোরে ধামাচাপা পড়ে গিয়েছিল। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মাত্রাতিরিক্ত মাখামাখি এবং ট্রাম্প পরিবারের ঘনিষ্ঠজনদের নিয়ে বিশ্বকাপ বিক্রির সেই মেগা ডিল সাজানোর গুঞ্জনই সবকিছু পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছে। খোদ উয়েফা এবং ফুটবল পরিবারের সিংহভাগ সদস্য এখন ইনফান্তিনোর ওপর থেকে পুরোপুরি আস্থা হারিয়ে ফেলছে, যা ফিফার ইতিহাসে বিরল এক বিদ্রোহের সূচনা করেছে।

যদিও ৫৬ বছর বয়সী এই সুইস-ইতালীয় প্রশাসককে সরাতে হলে প্রয়োজন ৪৩টি দেশের অনাস্থা প্রস্তাব এবং একজন শক্তিশালী বিকল্প প্রার্থী, যা এখনো দৃশ্যমান নয়। ট্রাম্প, কাতারের রাজপরিবার কিংবা সৌদি যুবরাজের মতো প্রভাবশালী মিত্ররা এখনো তাঁর ছায়ায় থাকলেও, ক্ষমতা হারানোর আশঙ্কায় থাকা এই মানুষটি এখন সত্যিই যোগ হওয়া সময়ের অন্তিম মুহূর্তে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। আর একটিমাত্র ভুল বা একটুখানি অসতর্কতাই হয়তো চিরতরে কেড়ে নিতে পারে তাঁর সোনার সিংহাসন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back To Top