মাঠের সবুজ ঘাসে তিনি এক হুঙ্কার ছাড়া সিংহ! গোল করার অদম্য ক্ষুধা আর রূপকথার মতো পারফরম্যান্সে বিশ্ব ফুটবলের রাজাপদটি নিজের করে রেখেছেন বছরের পর বছর। কিন্তু ড্রেসিং রুমের সেই বন্ধ দরজার আড়ালে কেমন সিআরসেভেন? ক্যামেরা আর হাজার হাজার দর্শকের চোখ যখন সরে যায়, তখন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ঠিক কেমন মানুষ?
অবশেষে মুখ খুললেন তারই সাবেক সতীর্থ! সৌদি আরবে পর্তুগিজ যুবরাজের সাথে একই ড্রেসিং রুম শেয়ার করা আলভারো গঞ্জালেস ফাঁস করলেন এক অজানা রহস্য। রোনালদোর ভেতরের সেই বাস্তব রূপ দেখে যা নাকি বিশ্বাসই করতে পারেননি তিনি!
স্প্যানিশ রেডিও ‘মার্কা’-এর এক রোমাঞ্চকর সাক্ষাৎকারে আলভারো গঞ্জালেস জানালেন ড্রেসিং রুমের সেই অভিজ্ঞতা। যেখানে তারকাদের অহংকার কিংবা ক্ষমতার দাপট থাকে, সেখানে রোনালদো নাকি একেবারেই উল্টো! গঞ্জালেসের ভাষায়— মাঠের বাইরে ড্রেসিং রুমে রোনালদো একজন অবিশ্বাস্য রকম সাধারণ এবং মাটির মানুষ। বিপদে-আপদে তিনি সতীর্থদের দিকে হাত বাড়িয়ে দেন পরম মমতায়।
সৌদি ক্লাব আল-নাসরে রোনালদো যখন পা রাখেন, তখন ক্লাবটির কিছু জটিল পরিস্থিতি সামাল দিতে এক অদৃশ্য নায়কের মতো এগিয়ে এসেছিলেন এই মহাতারকা। সতীর্থদের সাহায্য করা থেকে শুরু করে পুরো ড্রেসিং রুমকে এক সুতোয় বেঁধে রাখার কাজটি তিনি করেছেন অত্যন্ত বিনয়ের সাথে।
কিন্তু… এই শান্ত, সহমর্মী মানুষটিই বদলে যান এক নিমেষে!
গঞ্জালেস জানান, ড্রেসিং রুম থেকে পা বাড়িয়ে যখনই রোনালদো মাঠের সবুজ ঘাস স্পর্শ করেন, তখনই তার খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসে এক রক্তপিপাসু প্রতিযোগিতার দানব! মাঠের ভেতরে তিনি কেবল জিততে চান, প্রতিপক্ষকে দুমড়ে-মুচড়ে দিতে চান। অনুশীলন পর্বেও তাঁর জয়ের ক্ষুধা একটুও কমে না।
এমনকি প্র্যাকটিস সেশনেও রোনালদোর সাথে ধাক্কাধাক্কি বা কথার লড়াই হতো সতীর্থদের! গঞ্জালেস হেসে জানান, অনুশীলনে কঠোর লড়াইয়ের পর রোনালদো নাকি রাগান্বিত চোখে তাকাতেন! কিন্তু মাঠের সেই তীব্র লড়াই শেষ হতেই ফের দেখা যেত তার চেনা রূপ। প্র্যাকটিস শেষে সবাই যখন জাকুজিতে গিয়ে বসতেন, তখন রোনালদো আবার সেই হাসিখুশি, কৌতুকপ্রিয় সাধারণ মানুষ!
ইউরোপের ফুটবল মাতিয়ে এশিয়ায় আসলেও নিজের স্ট্যান্ডার্ড এক চুলও কমাননি সিআরসেভেন। অনুশীলনেও সতীর্থদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ লড়াই দাবি করেন তিনি। কারণ, তাঁর চোখে এখন শুধুই এক মহাকাব্যিক লক্ষ্য— ক্যারিয়ারের ১০০০টি গোল!
গঞ্জালেসের মতে, বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে রোনালদো এবং মেসি এমন দুই নাম, যারা চিরকালের জন্য ফুটবলের অমর পাতায় খোদাই হয়ে থাকবেন। তবে মাঠের কঠোর বাস্তবতার পেছনে রোনালদোর এই দরদী ও সাহায্যকারী চরিত্রই তাঁকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
পর্দার পেছনের এই মহাতারকা আসলেই এক জীবন্ত ফিনিক্স পাখি— যা ফুটবল বিশ্ব আগে কখনও দেখেনি!
