ইরানের বিশ্বকাপ ঘিরে অনিশ্চয়তা

মাঠের লড়াই ছাপিয়ে যুদ্ধের দামামা আর কূটনৈতিক টানাপোড়েনে এখন খাদের কিনারায় ইরানের ফুটবল ভবিষ্যৎ। ২০২৬ বিশ্বকাপ দুয়ারে কড়া নাড়লেও ইরান কি আদৌ যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে পা রাখবে, নাকি মাঠের বাইরের রাজনীতিতে বিসর্জন দেবে তাদের বিশ্বমঞ্চের স্বপ্ন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এখন বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফার সদর দপ্তর জুরিখে বসতে যাচ্ছে এক রুদ্ধশ্বাস বৈঠক।

ঘটনার সূত্রপাত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন ইরান ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার পর গোটা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি পাল্টে যায়। সেই উত্তাপের রেশ ছড়িয়ে পড়েছে সবুজ গালিচাতেও। সম্প্রতি ভ্যাঙ্কুভারে ফিফার বার্ষিক কংগ্রেসে ২০টি দেশের প্রতিনিধি উপস্থিত থাকলেও ইরানের আসনটি ছিল শূন্য। সেই শূন্যতা বিশ্বজুড়ে তৈরি করেছে নানা জল্পনা। যদিও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দফায় দফায় আশ্বস্ত করেছেন যে ইরান বিশ্বকাপ খেলবে, কিন্তু পর্দার পেছনের চিত্রটা মোটেও মসৃণ নয়।

কানাডায় ফিফার কংগ্রেসে যোগ দিতে গিয়ে যে অপমানের মুখে পড়েছেন ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ, তা পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তুলেছে। টরন্টো বিমানবন্দরে তাকে দুই ঘণ্টা আটকে রেখে যখন প্রশ্ন করা হলো তিনি রেভোল্যুশনারি গার্ডের সদস্য কি না, তখন তাজের সপাট জবাব ছিল— ইরানের ৯ কোটি মানুষই এই বাহিনীর সদস্য। এই তপ্ত বাক্যবিনিময়ের পর কানাডায় প্রবেশ না করে ক্ষোভে দেশে ফিরে যান তিনি। এর আগে গত ডিসেম্বরে ড্র অনুষ্ঠানে যোগ দিতেও তাকে ভিসা দেয়নি ওয়াশিংটন। এমন এক বৈরী পরিবেশে অ্যারিজোনার টুসনে ক্যাম্প করা কিংবা লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ড ও বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাঠে নামা এখন বড় এক অনিশ্চয়তার নাম।

দেশের ভেতরে লিগ বন্ধ, ফুটবলারদের অনুশীলনেও নেই স্বস্তি। যুদ্ধের আবহে কেবল তুরস্কের আন্তালিয়ায় কয়েকটা প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে কোনোমতে প্রাণ টিকিয়ে রেখেছে দেশটির ফুটবল। এমতাবস্থায় ২০ মে’র জুরিখ বৈঠকই হতে যাচ্ছে ইরানের শেষ ভরসা। ফিফা মহাসচিবের আমন্ত্রণে সেই বৈঠকে কী আলোচনা হবে, তা এখনো ধোঁয়াশা। তবে ফুটবলপ্রেমীদের মনে একটাই প্রশ্ন— রাজনৈতিক শত্রুতা কি শেষ পর্যন্ত কেড়ে নেবে বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘জি’-র রোমাঞ্চ, নাকি ফিফার হস্তক্ষেপে সব বাধা পেরিয়ে ১৬ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসের গ্যালারিতে উড়বে ইরানের পতাকা? উত্তরের জন্য এখন গোটা ফুটবল বিশ্ব তাকিয়ে আছে জুরিখের দিকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back To Top