চার বছর সময়টা ফুটবল দুনিয়ায় কতটা মহাবিস্ফোরণ ঘটিয়ে দিতে পারে, তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ বোধহয় হুলিয়ান আলভারেজ। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে যখন পা রেখেছিলেন, তখন তিনি ছিলেন কেবলই একাদশের ব্যাক-আপ অপশন, লাউতারো মার্তিনেসের ছায়ায় ঢাকা পড়া এক তরুণ। কিন্তু ভাগ্যের চাকা ঘুরতে সময় নেয়নি। সৌদি আরবের কাছে সেই স্তব্ধ করে দেওয়া হারের পর যখন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ স্বপ্ন সুতোয় ঝুলছিল, তখনই দৃশ্যপটে আসেন আলভারেজ। পোল্যান্ডের বিপক্ষে গোল করে কোচ স্কালোনির আস্থার প্রতিদান দিয়ে যে যাত্রা শুরু করেছিলেন, তা শেষ হয়েছিল লুসাইল স্টেডিয়ামে সোনালী ট্রফি উঁচিয়ে ধরার মধ্য দিয়ে।
আজ তিনি আর সেই ব্যাক-আপ বেঞ্চের তরুণ নন। সময়ের পরিক্রমায় ২৬ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড এখন আতলেতিকো মাদ্রিদের প্রধান কাণ্ডারি এবং বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ২০২৬ বিশ্বকাপ যখন কড়া নাড়ছে দরজায়, তখন ফিফাকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে নিজের ভেতরের সেই চিরন্তন আর্জেন্টাইন ক্ষুধা আর স্বপ্নের কথা জানান দিলেন আলভারেজ। আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া এবং জর্ডানের মতো দল নিয়ে গড়া গ্রুপ ‘জে’-তে লড়বে আর্জেন্টিনা। তবে আলভারেজের চোখ অনেক উঁচুতে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, একজন আর্জেন্টাইন হিসেবে তাদের রক্তেই মিশে আছে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার তাড়না। এবারও তার কোনো ব্যতিক্রম হবে না। শিরোপা ধরে রেখে দেশের মানুষকে আবারও আনন্দের বন্যায় ভাসাতে মুখিয়ে আছেন তিনি।
লাউতারো মার্তিনেসের সাথে দলের জায়গা পাওয়া নিয়ে যে তীব্র লড়াই, সেটাকে একদম সুস্থ এবং ইতিবাচক প্রতিযোগিতা হিসেবেই দেখছেন এই তারকা। মাঠের বাইরে তাদের বন্ধুত্ব আর মাঠের ভেতরের বোঝাপড়া আর্জেন্টিনাকে আরও শক্তিশালী করছে বলে বিশ্বাস তার। কাতার বিশ্বকাপের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আলভারেজ মেক্সিকো ম্যাচের কথা আলাদাভাবে উল্লেখ করেন। তার মতে, ওই ম্যাচটিই ছিল পুরো আলবিসেলেস্তে শিবিরের ঘুরে দাঁড়ানোর আসল টার্নিং পয়েন্ট, যেখান থেকে তারা নিজেদের ভাগ্য নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছিলেন।
তবে এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় আবেগ মিশে আছে ফুটবল মহাতারকা লিওনেল মেসির বিদায়ের সুর ঘিরে। আলভারেজও স্বীকার করলেন, বয়স বিবেচনায় এটিই হয়তো হতে যাচ্ছে মহাতারকার শেষ বিশ্বকাপ। এটি কেবল তাদের সতীর্থদের জন্যই নয় বরং বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর জন্য এক আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি করবে। যদি মেসিকে সাথে নিয়ে তারা এবারও বিশ্বকাপ ধরে রাখতে পারেন, তবে ব্যাক-টু-ব্যাক বিশ্বকাপ এবং টানা দুইবার কোপা আমেরিকা জয়ের এই অনন্য কীর্তি আর্জেন্টিনাকে ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা জাতীয় দল হিসেবে অমরত্ব দেবে; এমনটাই স্বপ্ন আলভারেজের। গায়ের আকাশী-সাদা জার্সির যে গুরুভার, তা এখন শতভাগ পরিণত মস্তিষ্কে ধারণ করে বিশ্বজয়ের নতুন মহাকাব্য লিখতে পুরোপুরি প্রস্তুত আর্জেন্টিনার এই তরুণ শার্পশুটার।
সূত্র: ফিফা
