ঝড়ের মুখে নেইমার, পারবেন কি ঘূর্ণি সামলে ঘুরে দাঁড়াতে?

২০২৬ বিশ্বকাপ সামনে রেখে ফুটবল বিশ্বের আকাশে এখন আশার চেয়ে আশঙ্কার মেঘটাই বেশি ঘনীভূত হচ্ছে। ফুটবলপ্রেমীদের জন্য খবরটা বেশ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে গ্রহণ করার মতো। যার পায়ের জাদুতে মুগ্ধ হয়ে একসময় বিশ্ববাসী ‘জোগো বনিতো’র প্রেমে পড়েছিল, সেই নেইমার জুনিয়র আজ নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন বাঁকে দাঁড়িয়ে। চোট আর ফিটনেসের লড়াইয়ে তিনি এতটাই কোণঠাসা যে আসন্ন বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হলুদ জার্সিতে তাকে দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে এখন বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন ঝুলে আছে।

লুসাইল স্টেডিয়ামে সেই যে কান্নাসিক্ত বিদায়, তারপর থেকে সময়টা নেইমারের জন্য বড্ড নিষ্ঠুর। কাতার বিশ্বকাপের পর থেকে বারংবার চোট তাকে মাঠের বাইরে ঠেলে দিয়েছে। সম্প্রতি সান্তোসের হয়ে মাঠে ফিরে কিছুটা ছন্দে ফেরার আভাস দিলেও সেই পুরনো নেইমারকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ৯ কিলোমিটার দৌড়ানোর পরিসংখ্যান হয়তো ইতিবাচক কিন্তু ব্রাজিলের মতো হাই-প্রোফাইল দলের জন্য সেটা কি যথেষ্ট?

কার্লো আনচেলত্তির অধীনে সেলেসাওরা এখন নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। তাই ব্যক্তিগত জাদুর চেয়ে শারীরিক সক্ষমতাকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। মার্চে ফ্রান্স আর ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ প্রীতি ম্যাচগুলোতে নেইমারকে দলে না রাখা সেই কঠোর বাস্তবেরই প্রতিফলন।

নেইমারের এই লড়াইটা কেবল তার একার নয়, এটি কোটি কোটি ভক্তের আবেগেরও লড়াই। মেসি কিংবা রোনালদোর মতো নেইমারও হয়তো নিজের শেষ বিশ্বকাপটা রাঙাতে চেয়েছিলেন, চেয়েছিলেন একটা অধরা ট্রফি দিয়ে ক্যারিয়ারের ইতি টানতে। কিন্তু হাঁটুর অস্ত্রোপচার আর গোড়ালির অবাধ্যতা যেন বারবার তার স্বপ্নের পথে দেওয়াল হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

আনচেলত্তি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নেইমারের সামর্থ্য নিয়ে কোনো সংশয় নেই, সংশয় কেবল তার শরীর নিয়ে। আগামী মে মাস পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে এই ফুটবল জাদুকরকে। যদি শরীর সায় দেয়, তবেই হয়তো উত্তর আমেরিকার মাটিতে দেখা মিলবে সেই চিরচেনা হাসি আর ড্রিবলিংয়ের। অন্যথায়, ২০২৬ বিশ্বকাপ হয়তো তার জন্য হয়ে থাকবে এক অপূর্ণ আক্ষেপের নাম। ফুটবলের রাজপুত্র কি পারবেন সব বাধা টপকে শেষবারের মতো তার রাজত্ব ফিরে পেতে, নাকি মাঠের বাইরে থেকেই বিদায় নিতে হবে ব্রাজিলের এই মহাতারকাকে?

সূত্র: মার্কা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back To Top