জেসনিকা স্টেডিয়ামে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা। তার চোখের সামনেই বিশ্বকাপের টিকিট পাওয়ার আনন্দে মেতেছে স্বাগতিক বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। টাইব্রেকারে ৪-১ ব্যবধানের এই জয় কেবল বলকান অঞ্চলের দলটির ১২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটায়নি, ইতালির কপালে লেপে দিয়েছে টানা তিনবার বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ার কলঙ্ক। প্লে-অফের এই ফাইনালে হারের মাধ্যমে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইতালি ইতিহাসে প্রথম সাবেক চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনে টানা তিনবার ব্যর্থ হওয়ার লজ্জাজনক রেকর্ড গড়ল।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ছিল ইতালির পক্ষেই। ১৫ মিনিটে বসনিয়া গোলরক্ষকের মারাত্মক ভুলে বল পেয়ে ময়েজ কিনকে পাস দেন নিকোলা বারেল্লা, যা থেকে গোল করতে ভুল করেননি কিন। ইতালির জার্সিতে এটি ছিল তার টানা ষষ্ঠ গোল। কিন্তু ৪১ মিনিটে ম্যাচের চিত্রপট বদলে যায়। আমর মেমিচকে বিপজ্জনক ট্যাকল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ইতালিয়ান ডিফেন্ডার আলেসান্দ্রো বাস্তোনি। দশ জনের দলে পরিণত হওয়া ইতালির ওপর এরপর মুহুর্মুহু আক্রমণ চালায় বসনিয়া। রক্ষণের দেয়ালে ফাটল ধরে ৭৯ মিনিটে, যখন হারিস তাবাকোভিচ জটলার ভেতর থেকে ফিরতি বলে লক্ষ্যভেদ করে ম্যাচে সমতা ফেরান।
নির্ধারিত সময় এবং অতিরিক্ত সময় ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার পর ভাগ্য নির্ধারণের জন্য ম্যাচ গড়ায় পেনাল্টি শ্যুটআউটে। সেখানে ইতালির পিও এসপোসিতো বল মারেন পোস্টের ওপর দিয়ে এবং ব্রায়ান ক্রিস্তান্তের শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। অন্যদিকে বসনিয়া তাদের চারটি শট থেকেই গোল আদায় করে নেয়। ক্যারিয়ারজুড়ে টাইব্রেকারে দুর্দান্ত রেকর্ড থাকা দোন্নারুম্মাও এবার রুখতে পারেননি বাজরাকতারভিচের জয়সূচক শটটি। ২০১৭ সালে সুইডেন এবং ২০২২ সালে উত্তর মেসিডোনিয়ার কাছে হারের পর এবার র্যাঙ্কিংয়ের ৭১তম দেশ বসনিয়ার কাছে হেরে বিদায় নিতে হলো আজ্জুরিদের।
এই হারের পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি ইতালির কড়া মেজাজের কোচ জেনারো গাত্তুসো। ক্যারিয়ারজুড়ে মাঠের লড়াইয়ে কঠিন মানসিকতার পরিচয় দিলেও ম্যাচ শেষে তাকে দেখা গেছে ভেজা চোখে। গাত্তুসো বলেন, এই ধাক্কা হজম করা সত্যিই কঠিন কারণ বিশ্বকাপের মূল আসরে জায়গা করে নেওয়া গোটা ইতালির জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল। ২০৩০ বিশ্বকাপের আগে এখন আর বিশ্বমঞ্চে ফেরার কোনো সুযোগ নেই চারবারের চ্যাম্পিয়নদের। অন্যদিকে ২০১৪ সালের পর আবারও বিশ্বকাপে ফিরে নিজেদের নীল উৎসব শুরু করেছে বসনিয়া। ইতালির নীল যখন বিষাদে নীল, তখন বসনিয়ার জন্য এটি এক দীর্ঘ প্রতীক্ষিত রূপকথার রাত।
